স্টাফ রিপোর্টার
লাউড়েরগড় একটি ঐতিহাসিক জায়গার নাম। যে স্থানে ছিল রাজা-জমিদারের বাড়ি। বর্তমানে এই এলাকার রাজারগাঁওয়ের অদ্বৈত মহাপ্রভুর মন্দির, পণতীর্থ ধাম ও শাহ আরেপীন’র মোকাম। রয়েছে সীমান্ত নদী যাদুকাটার অপরূপ সৌন্দর্য ও বড়গোপটিলা (বারেকের টিলা)। সবমিলিয়ে এই এলাকা পর্যটনের উপযুক্ত। সরকারি-বেসরকারিভাবে এখন কোন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। প্রতিদিনিই শত শত প্রকৃতিপ্রেমী ঘুরতে যান এই এলাকায়।
তবে বাস্তব সত্য, গত কয়েক বছর ধরে লাউড়েরগড় যেতে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ এলাকা থেকে লাউড়েরগড় এলাকা পর্যন্ত এলজিইডির প্রায় ৮ কিলোমিটার পাকা রাস্তার (পলাশ থেকে লাউড়েরগড় পর্যন্ত বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা অংশে ৬.৬ কিলোমিটার ও তাহিরপুর উপজেলা অংশে আরো প্রায় এক কিলোমিটার) বেহাল দশা।
এলজিইডির বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ডলুরা থেকে সরূপগঞ্জ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার, বিশ্বম্ভরপুর-কাটাখালী-ছাতারকোনা ভায়া লাউড়েরগড় পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার ও পলাশ-ধনপুর ভায়া লাউড়েরগড় পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক ভাঙাচোরা। রাস্তাগুলো ছোট ছোট গর্তে ভরা। প্রতিদিনই শত শত যানবাহন ও সাধারণ যাত্রী ভাঙা রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও যানবাহন চালকদের অভিযোগ গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকার রাস্তা হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে এই রাস্তা মেরামত করা হচ্ছে না।
এই রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গালমন্দ করেন ও ক্ষোভ ঝাড়েন। কিন্তু রাস্তা সংস্কার বা উন্নয়নের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
গত ৬ এপ্রিল মঙ্গলবার জাদুকাটা নদীর তীরে আয়োজিত ‘পুণ্য¯œানের ৫০০ বছর ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ’ শীর্ষক একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য সুনামগঞ্জ এসেছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি। বিরূপ আবহাওয়া ও রাস্তা খারাপ থাকার কারণে ওই অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারেন নি তিনি। ছাতারকোনা গ্রাম থেকে সুনামগঞ্জে ফিরে আসেন তিনি। ওই দিন বিকালে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেছিলেন,‘বৈরী আবহাওয়া এবং সরু সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ার কারণে যাদুকাটা নদীর তীরের পূন্য¯œানে যাওয়া হলো না আমার।’
তাহিরপুরের ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল চালক মো. রফিক বলেন,‘ ভাই এই রাস্তা দিয়া গাড়ি লইয়া যাওন যায় না। চেয়ারম্যান, মেম্বার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি সাব কেউর নজরও পড়ে না ইতা। হারা রাস্তাই খালী ভাঙা আর গাতায় ভরা।’
ধনপুর ইউনিয়নের মুজিববাজারের বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন,‘এই এলাকার সবরাস্তা ভাঙাচোরা, রাস্তায় শুধু গর্ত আর গর্ত। ছোট ছোট গর্তে এমন পরিবেশ হয়েছে এসব রাস্তা দিয়ে যানবাহনে চলাচল করা যায় না। গত কয়েক বছর ধরেই রাস্তার এই দশা।’
তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আলম সাব্বির বলেন,‘পলাশ- লাউড়েরগড় রাস্তাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা। গত ১০ বছর ধরে এই রাস্তার উল্লেখযোগ্য কোন কাজ হয়নি। সংস্কারের নামে মাঝে মধ্যে যা কিছু করা হয়েছে তা শুধু সরকারি অর্থ লুটপাটের জন্য। রাস্তার বেহাল দশার জন্য যানবাহনে চলাচলকারী সবাই চরম দুর্ভোগের শিকার হন।’
এলজিইডির তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল অওদুদ বলেন,‘এই রাস্তার বেশ কিছু অংশ ভাঙাচোরা রয়েছে। আমাদের অংশে প্রায় ১ কিলোমিটার, আমরা আগামী অর্থ বছরে সংস্কার করা হবে।’
এলজিইডির বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুর রহমান তালুকদার বলেন,‘এসব রাস্তা মেরামত ও সংস্কার করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র পাঠানো হয়েছে। বার বার লেখালেখি করা হচ্ছে, আশা করা যায় এবার কাজ করার জন্য বরাদ্দ পাওয়া যাবে।’


