ই’তিকাফ আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়ক

মুফতি আবুবকর শাহ বারহালী
ই’তিকাফ আরবী শব্দ, যা আকাফাহ হতে এসেছে, যার অর্থ শক্ত করা, পরিষ্কার করা, কিছুকে অন্য কিছুর সাথে মিশিয়ে দেয়া, বিলীন করা ইত্যাদি। অন্য কথায় ই’তিকাফ ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পুরস্কারের আশায় নিজেকে পুরাপুরিভাবে মসজিদের সাথে মিশিয়ে দেয়াই ই’তিকাফ।
আল্লামা হাফেজ ইবনে আব্দুল কাইয়্যুম (রহ:) বলেন, ই’তিকাফের উদ্দেশ্য রূহ ও অন্তরকে আল্লাহর সাথে মিলানো। সকল ব্যস্ততা ও কার্যাবলী হতে ফারেগ হয়ে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য ব্যস্ত হওয়া। পার্থিব সব সংশ্রব ত্যাগ করত: মহান আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করা। আর এই সম্পর্ক নির্জন কবরেও কাজে আসবে।
মারাক্বিউল ফালাহ নামক কিতাবে আছে, ই’তিকাফ যদি আন্তরিকতার সহিত হয়, তবে তা সর্ব  শ্রেষ্ঠ ইবাদত এর ফজিলত সমূহ বর্ণনাতীত। কারণ এতে জগতের সব মায়াজালকে ছিন্ন করে যাকে একমাত্র মাওলাপাকের শানেই মগ্ন করা হয়। আপন সত্ত্বাকে মনিবের হাতে সোপর্দ করে তাঁরই দুয়ারে মাথা ঠেকানো হয়। তদুপরি শয়নে স্বপনে কেবলমাত্র সর্বদা আল্লাহর ইবাদতেই লিপ্ত থাকা হয় এবং তাঁর নৈকট্য লাভ হয়।
হাদিসে কুরসিতে আল্লাহ পাক বলেন, বান্দা যদি আমার দিকে অর্ধ হাত অগ্রসর হয়, আমি তাঁর দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর যে আমার দিকে আস্তে আস্তে আসে, আমার রহমত তাঁর দিকে দৌঁড়িয়ে আসে।
ই’তিকাফে যেহেতু আল্লাহর ঘরে আসা হয়। আর মসজিদ তো আল্লাহর ঘর। কাজেই মেহেরবান মেজবান মেহমানের সম্মান অবশ্যই করে থাকেন। মসজিদ আল্লাহর ঘর সেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না। পক্ষান্তরে পবিত্র রমজানে অভিশপ্ত শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয়। সুতরাং প্রবেশ করার প্রশ্নই আসে না।
ই’তিকাফ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। তবে প্রকারান্তে তা ওয়াজিব সুন্নত এবং নফলও হতে পারে। শরীয়তে ই’তিকাফকে এই তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত: কোন কাজের উপর শর্ত করে বা বিনা শর্তে মানত করলে সেটা হবে ওয়াজিব ই’তিকাফ। যে কয় দিনের নিয়ত করবে, সে কয় দিন অবশ্যই আদায় করতে হবে। দ্বিতীয়ত: সুন্নত যা পবিত্র মাহে রমজান মাসের শেষ দশকে আদায় করা হয়। তৃতীয়ত: নফল যা সারা বছরের যেকোনা সময় করা যায়। এমনকি সারা জীবনের নিয়ত করলে ও তা জায়েজ। তবে কম সময়ের ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। (চলবে)