নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে দোয়ারাবাজার ছাতকের যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা- হুমকির মুখে উপজেলা সদরের বিস্তীর্ণ এলাকা

আশিক মিয়া, দোয়ারাবাজার  
সুরমার অব্যাহত ভাঙ্গনে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পথে এখন দুই উপজেলা যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা। ইতোমধ্যে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শতাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে উপজেলার সদরের বিস্তীর্ণ এলাকা। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদরের একমাত্র সংযোগ সড়কটি নদী ভাঙ্গনের কবলে থাকলেও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ। একেবারে নদী ঘেঁষে দোয়ারাবাজার থেকে ছাতক     
পর্যন্ত ওই সড়কটি কিন্ত পানির স্রোতে মাটি সরে গিয়ে সম্পুর্ণ চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়বে ।
উপজেলা সদরের সাথে পান্ডারগাঁও, মান্নারগাঁও, দোহালিয়া ইউনিয়নসহ ছাতক, সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে একমাত্র সংযোগ সড়ক দিয়ে বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় জনসাধারণকে। রাস্তাটি নদী গর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে ঝুঁকির মধ্যে প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজন কে। দ্রুত নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে উপজেলা সদরের রাস্তাগুলো সহ সরকারি প্রতিষ্ঠান সমুহ কে রক্ষায় উদ্যোগ না নিলে অচিরেই নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে সরকারি বেসরকারি স্থাপনা সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের পশ্চিমবাজার থেকে পূর্ব মাছিমপুর পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি রয়েছে হুমকির মুখে। বিলীন হওয়ার পথে এখন তীরবর্তী সড়ক ষেঁষে অবস্থিত উপজেলা খাদ্য গোদাম, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মসজিদ, বাজিতপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ দুটি গ্রাম ও সদরের শতাধিক ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠান।
মাষ্টার পাড়ার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী জানান, নদী ভাঙ্গনের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিনিয়িত কাজ করছি। বর্তমানে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করায় চলাচল তো দূরের কথা সরকারি রাস্তাটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরেছে। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পাড়ে। একটু বৃষ্টিপাত হলেই সড়কের দেখা দেয়। আর প্রতিদিনই ভাঙছে রাস্তাটি যেন দেখার কেউ নেই। ভাঙ্গন রোধে কর্তৃপক্ষের আন্তরিক কোনো উদ্যোগও দেখছি না।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙ্গন এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলাচল অযোগ্য হয়ে গেছে ওই সড়কটি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে রক্ষা করা যাবে না একাধিক সরকারি স্থাপনা সহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান , নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে সরকারি স্থাপনাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।