মুফতি আবুবকর শাহ বারহালী
(পূর্ব প্রকাশের পর)
ইমাম আবু হানিফা (রহ:) মতে, শবে ক্বদর সারা বছরের যে কোনো রাতে হতে পারে। ইমাম আবু ইউসুফ ও মোহাম্ম্দ (রহ:) মতে, রমজানের যেকোনো এক রাতে হতে পারে। ইমাম শাফেয়ী (রহ:) এর মতে একুশ তারিখ। ইমাম মালেক (রহ:) এর মতে, শেষ দশকের যে কোনো বেজোড় রাত্রিতে হতে পারে। শায়েখ মহিউদ্দিন ইবনে সায়বান (রহ:) বলেন, আমি শাবান মাসেও দুই বার শবে ক্বদর পেয়েছি। শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী (রহ:) বলেন, শবে ক্বদর বছরে দুই বার দেখা যায়। প্রথমত: যে রাতে লওহে মাহফুজ হতে কুরআন মজিদ অবতীর্ণ হয়। এটা সারা বছরই হতে পারে। দ্বিতীয়ত: যে রাতে আধ্যাত্মিক জগতে এক বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি হয় ও অগণিত ফেরেস্তা জগতে অবতরণ করেন।
শয়তান দূরীভূত হয় এবং দোয়াসমুহ কবুল হয়। এটা রমজানের শেষ দশকের রমজানের যে কোনো বেজোড় রাতে হয়ে থাকে।
সুতরাং উল্লেখিত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, শবে ক্বদর রমজানের শেষ দশকের যে কোনো রাতে হতে পারে। আর তাই তো এই দশ দিন মসজিদে ই’তিকাফের হালতে থাকলে আশা পূরণ করা যায়, শবে ক্বদর ভাগ্যে জুটে যাবে। এমন একটা প্রশ্ন জাগে যে, ই’তিকাফ কোথায় করবে। এ ব্যাপারে শায়খুল হাদিস মাওলানা জাকারিয়া (রহ:) বলেন, পুরুষের জন্য ই’তিকাফের উত্তম স্থান হলো মক্কার মসজিদ, তারপর মসজিদে নববী, তারপর মসজিদে আকসা, তারপর স্থানীয় জামে মসজিদ। আর মহিলাদের জন্য আসন গৃহের নির্জন কক্ষ। ইমাম আবু হানিফা (রহ:) মতে, মসজিদে জামাত হওয়া শর্ত। ইমাম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ (রহ:) এর মতে, মসজিদে হওয়াই যথেষ্ট।
ই’তিকাফ জানাযার নামাজের মতো। কিছু মানুষে আদায় করে নিলেই পুরা মহল্লাবাসীর পক্ষ হতে আদায় হয়ে যাবে। আর কেউ না করলে সকলেই গোনাগার হবে। তবে এ ব্যাপারে কাউকে জোর জবরদস্তি করা যাবে না। অনেক জায়গায় দেখা যায় যে, ইমামগণকে জোর করেই বসানো হয় ই’তিকাফে। এটা করা উচিৎ নয়। ই’তিকাফ ইমামের নয়, মহল্লাবাসীর। এ ক্ষেত্রে কোনো ইমাম যদি ই’তিকাফে স্বেচ্ছায় বসেন, তাহলে মহল্লাবাসী মুক্তি পেয়ে যাবে। (চলবে)


