শর্ষের মধ্যে ভুত তাড়াবে কে?- কৃষকের ব্ল্যাঙ্ক চেক ছাড়িয়ে নিলেন তদন্ত কর্মকর্তা

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জের ওসিএলএসডি মো. সেলিম হায়দারের অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের দায়িত্ব পান সুনামগঞ্জ সদর ও জামালগঞ্জের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার দেব।
ওই তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই সাংবাদিকদের সাথে জামালগঞ্জের ওসিএলএসডি ও তার অনুগত সিন্ডিকেটের সদস্যরা সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও লাঞ্ছিত করে। ঘটনার সময় তদন্ত কর্মকর্তা বিনয় কুমার দেব নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করেন।
শুরু থেকেই তদন্তকারী কর্মকর্তা বিনয় কুমার দেব’র রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিক, কৃষক ও সুধী সমাজের সন্দেহ ছিল। লোক দেখানো তদন্ত নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে ব্যাপক। শেষ পর্যন্ত সন্দেহ বাস্তবে রূপ ধারণ করছে। ‘শর্ষের মধ্যেই ভুত’র পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই দুর্নীতিবাজ ওসিএলএসডির পক্ষে কাজ করেছেন। জামালগঞ্জের কৃষি ব্যাংকে কৃষক আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত জব্দ থাকা (ব্ল্যাঙ্ক্ চেক) ৩ টন ধানের টাকার তদন্ত কর্মকর্তা বিনয় কুমার দেব উল্টো সেই চেকটি সুপারিশ করে ছাড়িয়ে দেন।
বুধবারে সংবাদ প্রকাশের পর-পরই তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে পর দিন তদন্ত রির্পোট জমা দেয়ার কথা থাকলেও অদৃশ্য কারণে ৪ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন নি।
জামালগঞ্জ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মিঠুন চৌধুরী বলেন, ‘আমি ৬৯ হাজার টাকার চেক জব্দ করে রেখেছিলাম। কয়েক দিন থাকার পর ওসি এলএসডির উপর সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের আসা খাদ্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার দেব আমাকে চেকটি ছাড়ার জন্য অনুরোধ করেন। তদন্ত কমিটির অনুরোধে আমি চেকের পেমেন্ট দিয়ে দিয়েছি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বিনয় কুমার দেব বলেন, জামালগঞ্জের ওসি এলএসডির বিরুদ্ধে উঠা অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত রির্পোট এখনো দেয়া হয়নি। তবে দিয়ে দেব, কৃষি ব্যাংকে আটকানো চেক ছাড়ানোর জন্য তিনি কোন সুপারিশ করেন নি বলে দাবি করেন।