ইউপি নির্বাচনে পরাজয়ের জের-অধ্যক্ষকে কলেজ ছাড়ার হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার, দিরাই
এবার কলেজ ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে এক শিক্ষককে। ইউপি নির্বাচনে পরাজয়ের জের ধরে ওই শিক্ষককে এই হুমকি দেয়া হয়। ওই শিক্ষকের নাম নৃপেন্দ্র চন্দ্র তালুকদার। তিনি দিরাই উপজেলার বিবিয়ানা মডেল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ।  অধ্যক্ষের বড় ভাই বিবিয়ানা মডেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী পবিত্র মোহন দাস কুলঞ্জ ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মিলন মিয়াসহ প্রভাবশালী একটি মহলের রোষানলের শিকার হয়েছেন তিনি (অধ্যক্ষ)।
মিলন মিয়ার বড় ভাই আব্দর রাজ্জাক ওরফে ছুরুক মিয়া বলেন, ‘আমরাই এই অধ্যক্ষকে কলেজের চেয়ারে বসিয়ে ছিলাম, এখন সে আমাদেরই ছোবল মারছে, তার ভাইয়ের কারণেই আমার ভাই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, তাকে অবশ্যই কলেজ ছাড়তে হবে।’
ভাইটগাঁও গ্রামের অশিতিপর মুক্তিযোদ্ধা ননী গোপাল দাস বলেন, ‘বিবিয়ানা মডেল ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন    
অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাশ অত্যন্ত সুনামের সাথে কলেজ পরিচালনা করে আসছেন।  সিলেট শিক্ষা বোর্ডে দু’বার ১৮তম স্থান অধিকারী ওই কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হঠাৎ করে অনিয়ম-দুর্নীতি ও সমাজ বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওই অধ্যক্ষ না-কি এলাকার বিল ও জলমহাল নিয়ে ব্যবসা করেন।  এধরণের অভিযোগের পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়’।
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও এলাকার সাংসদ সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের কাছে দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে অভিযোগকারী উল্লেখ করেন, ‘গত ২৮ মে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ৯ নং কুলঞ্জ ইউনিয়নে পবিত্র মোহন দাস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তিনি (অধ্যক্ষ) প্রকাশ্যে পবিত্র মোহন দাসের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন। এ কাজে তিনি কলেজকে শতভাগ ব্যবহার করেন। এমনকি বিবিয়ানা মডেল কলেজের কার্যালয়কে ব্যবহার করেন পবিত্র মোহন দাসের নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে। কলেজের অফিসে বসে তিনি ভোটারদের কাছে টাকা বিতরণ করে পবিত্র মোহন দাসের টেলিফোন মার্কার জন্য ভোট কেনেন। রাতের অন্ধকারে গ্রামে গ্রামে গিয়েও তিনি ভোটারদের কাছে টাকা বিতরণ করেন। কলেজের ছাত্রদেরকে টাকা দিয়ে মিছিল করিয়েছেন’। মজার ব্যাপার হচ্ছে, অভিযোগপত্রে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচন কেন্দ্রীক এতসব অভিযোগ থাকার পরও নির্বাচন কমিশনে  কোনো অভিযোগ নেই।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, নির্বাচন করেছে আমার ভাই। দোষ করে থাকলে সে-ই জবাবদিহীতা করবে। অথচ একের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে কলেজ ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে আমাকে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।   
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, রবিবার বিবিয়ানা মডেল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে এলাকার সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের প্রেরিত অভিযোগ পত্র তিনি পেয়েছেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।