দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
দোয়ারাবাজার উপজেলার সবকটা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চলছে প্রশংসাপত্র বাণিজ্য। এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্নদের কাছ থেকে ইচ্ছা খুশি টাকা আদায় করছেন। তবে অনেক বিদ্যালয় আবার কোন টাকা ছাড়াই প্রশংসাপত্র দিচ্ছেন।
জানা যায়, উপজেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৫২৭ জন, পাশ করেছে ১২৬৭ জন। এখন কলেজে ভর্তি হতে বিদ্যালয়ের প্রশংসাপত্র আনতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে টাকা।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, প্রশংসাপত্র প্রদানে ছাত্র-ছাত্রীদের কাটাখালীবাজার এলাকার মিতালী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় আদায় করছেন ৫০০ টাকা, দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ৩০০ টাকা, ঘিলাছড়া স্কুল ও কলেজে ৫০০ টাকা, বগুলা রোছমত আলী রামসুন্দর স্কুল ও কলেজ ৩০০ টাকা, আমবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ২০০ টাকা, টেংরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৫০ টাকা, মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপটেন হেলাল খসরু উচ্চ বিদ্যালয় ২০০ টাকা ও লিয়াকতগঞ্জ স্কুল ও কলেজে ১৫০ টাকা আদায় করছেন।
কাটাখালী বাজার পরিচলনা কমিটির সহ সভাপতি অসীত কুমার দাস বলেন,‘ধনী-গরিব সকল ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকেই মিতালী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসংসাপত্র দেয়ার সময় ৫০০ টাকা করে আদায় করছেন। একাধিক ছাত্র-ছাত্রী বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে। ছাত্ররা ওই টাকার রশিদ চাইলে প্রধান শিক্ষক কোন রশিদ দেয়নি। বিষয়টি আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অবগত করেছি।’
মিতালী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ময়না মিয়া বলেন, ‘আমরা ৫০০ টাকা করেই নিচ্ছি, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই টাকা নেয়া হচ্ছে।’
বড়খাল স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক নজীর আহম্মদ বলেন,‘পাঁচটি বছর লেখা পড়া করেছে ছাত্রছাত্রী তাদের উৎসাহ দেবার জন্য আমি তাদের কাছ থেকে প্রশংসা পত্রের বিনিময়ে একটি টাকাও রাখছিনা।’
দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালেক বলেন, ‘এসব লেখালেখি করে কি লাভ। যা পারেন তা লিখেন গিয়ে, এসবের কিছুই আসে যায় না।’
এদিকে প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক সম্প্রতি স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের উপ-বৃত্তির টাকা থেকে ও টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ২০ টাকা, ৭/৮ শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা, নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আদায় করছেন বলেও জানা গেছে। বিদ্যালয়ের মোট ৫১৯ জন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
ঘিলাছড়া স্কুল ও কলেজে অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমান বলেন,‘ প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই টাকা নিচ্ছি।’
আমবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন,‘আমরা দু-একশ টাকা নিলে আপনারা দেখেন এর চেয়ে বড় বড় দুর্নীতি হচ্ছে এসব দেখেন না।’
মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল খসরু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলজার আহাম্মদ বলেন,‘পাঁচ বছর লেখাপড়া করেছে তারা এর জন্য কিছু টাকা রাখছি আমরা।’
লিয়াকতগঞ্জ স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ নুর আহমদ বলেন,‘আমাদের কোন নির্ধারিত টাকা নিচ্ছি না। যে যত দেয় তাই নিচ্ছি। কেউ দিচ্ছে ১৫০টাকা, অবার কেউ দিচ্ছে ১০০ টাকা।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মেহেরুল্লাহ বলেন,‘কেউ প্রশংসাপত্র দিয়ে নির্ধারিত হারে টাকা নেয়ার কথা নয়। যারা টাকা নিচ্ছে অবৈধভাবে নিচ্ছে। এ ব্যাপারে আমি উর্র্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন,‘প্রশংসাপত্র প্রদানের সময় টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সত্যতাও পেয়েছি। যারা এসব কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


