ইউরোপে না থাকার পক্ষে রায় দিয়েছে বৃটেনবাসী

লন্ডন থেকে মতিয়ার চৌধুরী
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থাকা না-থাকা নিয়ে গণভোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইইউ ছাড়ার পক্ষেই  রায় দিয়েছে বৃটেনের জনগণ। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রিটেনের ৪৩ বছরের বন্ধন ছিন্ন হলো। লিভ পন্থিরা পেয়েছেন ৫১দশমিক ৯শতাংশ। আর রিমেইন পন্থিরা পেয়েছেন ৪৮দশমিক ১শতাংশ ভোট। মোট কাস্ট হওয়া ভোটের ১কোটি ৭৪ লক্ষ দশ হাজার ৭৩২ ভোটে জয়ী হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার পক্ষে লিভপন্থিরা। অন্যদিকে ইইউতে থাকার পক্ষে রিমেইন পন্থিরা পেয়েছে এককোটি ৬১লাখ ৪২হাজার ২২১ ভোট।  মোট কাস্ট হওয়া ভোটের ১৩লাখ বেশী ভোট পেয়ে বিজয়ী হলো লিভ।  ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন অঞ্চলে ইইউ ছাড়ার পক্ষে ব্যাপক ভোট পড়ে। স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে থাকার পক্ষে বেশি ভোট পড়েছে। যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকা না-থাকা নিয়ে ভোট শুরু হয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায়। ভোট শেষ হয় রাত ১০টায়। এর পরপরই বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা হতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ের অন্য যে কোন নির্বাচনের চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ গণভোটে অংশ নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন আন্তর্জাতিক লেনদেনে ইউরো এবং স্টার্লিং এর দর এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এই গণভোটটিকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল এক সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। লিভপন্থিরা এটিকে বৃটেনের জন্যে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। বিভিন্ন দেশের  ৪ মিলিয়নেরও বেশী মানুষ যারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে বৃটেনে  পাড়ি জমিয়ে ছিলেন তাদের ফেরত যেতে হবে আবার ইউরোপে। বৃটেন ইউরোপের সাথে থাকলে অভিবাসন আটকানো ছিল অসম্ভব, প্রতিদিনই বাড়ছিল  ইউরোপীয় অভিবাসির সংখ্য। গত কয়েক বছরে এক কোটিরও বেশী সাউথ এশিয়ান ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রবেশ করেছে বৃটেনে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিমধ্যেই বৃটেনে এসেছে ৩ লক্ষেরও বেশী বাংলাদেশী। এর অধিকাংশই প্রবেশ করেছে ইতালী, স্পেন, ব্রাজিল ও ইষ্ট ইউরোপীয় দেশ থেকে।