অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে রবিবার রুটিনমাফিক কিছু কর্মসূচী পালিত হয়েছে। সরকারি এসব কর্মসূচী মূলত ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করতে পারে না। তাই এইসব কর্মসূচীর মর্মবস্তু জনগণ সেইভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হন না। তবু ভাল, কর্মসূচী পালনের সংবাদটি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় কিছু মানুষ অন্তত বিষয়টি জানতে পেরেছে। আরও ভাল হত, এই বিষয়ে চিকিৎসক ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্টরা যদি গণমাধ্যমে নিয়মিত লিখালিখি করতেন তাহলে। মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতার বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মানবদেহে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক উপরে। অর্থাৎ বাংলাদেশের একটি বিরাট সংখ্যক মানুষের শরীরে কোনো গ্রুপের এন্টিবায়োটিক ঔষধ কাজ করে না। জনস্বাস্থ্যের জন্য এই অবস্থা অতিশয় উদ্বেগজনক। এত বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারানো মানুষের উদ্ভব হওয়ার পিছনে প্রধান কারণটি হলো যেমন ইচ্ছা তেমন অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার। বাংলাদেশে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ সংগ্রহ করা যায় এবং রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই নির্দ্ধিধায় বহু মানুষ তা সেবন করেন। অনেক সময় প্রয়োজন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। অনেক চিকিৎসক রোগীকে পর্যবেক্ষণ ও অপেক্ষা ছাড়া প্রথম দিনেই অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দেন। এইসব কারণে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হ্রাস পাচ্ছে। এরকম একটি অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কর্মসূচী অতি প্রয়োজনীয়। এ ধরনের কর্মসূচীতে সেইসব জনগোষ্ঠীকে বেশি করে সম্পৃক্ত করা দরকার যারা সাধারণত রোগ-বালাই হলে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না, অর্থাৎ যারা কোনো ফার্মেসির সেলসম্যান বা গ্রাম্য ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করেন। কিন্তু দুঃখের সাথে বলতেই হয় কথিত সচেতনতা সপ্তাহের সেই মর্মবাণীটি সাধারণ্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাাশি আরও কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য। রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ব্যতীত যাতে আর কেউ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবস্থাপত্র না দিতে পারেন সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ফার্মেসিগুলো যাতে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ বিক্রি করতে না পারেন সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনা আমাদের মতো এত সহজ কাজ নয়। আমাদের ফামেসি ব্যবস্থাপনাকে উন্নত দেশের মত করে গড়ে তোলতে হবে। এজন্য আইনি বাধ্যকতা ও শক্ত তদারকি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা আবশ্যক। গ্রামীণ জনপদের চিকিৎসক যারা এমবিবিএস নন কিন্তু বিভিন্ন কোর্স করে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত, তাদেরকে অ্যান্টিবায়োটিক বিষয়ে আরও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকগণকেও অ্যান্টিবায়োটিকের অধিক ব্যবহার কমানোর বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক হলো জটিল রোগ সারানোর অন্যতম উপকরণ। মানুষের শরীর যখন এই অ্যান্টিবায়োটিক নিরোধী হয়ে উঠে তখন তার ভাল হওয়ার সকল আশা তিরোহিত হয়। তাই জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। আমরা চাই এই সচেতনতা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক। মানুষ সচেতন হয়ে উঠুক। কিসে নিজের ক্ষতি সেটি তারা বুঝতে শিখুক। অনেক সময় দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের একটি প্রবণতা চালুৃ আছে। এটি যে লাভের চাইতে ক্ষতি করে বেশি সেটি মানুষকে জানতে হবে। মানুষের এই সচেতনতার জন্য সরকারি উদ্যোগগুলো আরও জনসম্পৃক্ত হোক এই আমাদের কামনা।
- সড়কে অপরিকল্পিত উন্নয়ন মল্লিকপুর এলাকায় কয়েক ঘণ্টা ব্যাপী যানজট
- ভাটির হাওরের সিংহপুরুষ শহিদ জগৎজ্যোতি দাস

