বিআরটিএ’র রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি জমা দিতে ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি ব্যাংকে জমা দিতে মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সকাল থেকে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সামনে লাইনে থেকেও টাকা জমা দিতে পারছেন না অনেকেই। এতে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে ভোক্তভোগীদের।
সোমবার সকাল ৮ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংকের সামনে অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ২ তলার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রবেশপথ থেকে নিচের বাটা শোরুম পর্যন্ত ছিল লম্বা লাইন। লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা সবাই বিআরটিএ’র রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফি জমা দিতে এসেছেন। সদর উপজেলা ছাড়াও অন্যান্য উপজেলা থেকে এসেছেন অনেকে। অনেকে বলেন, ৩ দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টাকা জমা দিতে পারেননি। তাই আজ ব্যাংক খোলার ২ ঘন্টা আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন।
জানা যায়, নতুন সড়ক আইন কার্যকর করার পরে সবাই গাড়ির কাগজপত্র থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য ভিড় করছেন বিআরটিএ অফিস ও ব্যাংকে। ব্যাংকে টাকা জমা নেয়া হয় অনেক ধীর গতিতে। এক জনের টাকা জমা নিতেই ১০ মিনিট সময় লাগে। এতে প্রতিদিন মাত্র ৫০ জন টাকা জমা দিতে পারেন।
চিনাকান্দির বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সিএনজির কাগজ নবায়ন করতে টাকা জমা দিতে এসেছি। আজ সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছি। গত ২ দিন লাইনে দাঁড়িয়েও টাকা জমা দিতে পারিনি। এখানে টাকা দিতে এসে মনে হয় কোনো অপরাধের শাস্তি পাচ্ছি।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের মদনপুরের বাসিন্দা মো. ফজলুল ইসলাম বলেন, মোটর সাইকেলের শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে এসেছি। ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি।
শহরের কালিবাড়ির বাসিন্দা খোকন লাল বেগি বলেন, আমি আরো ৩ দিন ঘুরে গেছি। টাকা জমা দিতে পারি নি। বিআরটিএ যদি প্রতিটি উপজেলায় টাকা জমা দেয়ার ব্যবস্থা করে তাহলে আমাদের ভোগান্তি কমবে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বিআরটিএ সার্ভারের ফরম ফিলাপ করে অনলাইনে জমা দিতে অনেকটা সময় লাগে। এজন্য টাকা জমা দেয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা ধীর গতিতে সম্পন্ন হচ্ছে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংকের জেলা শাখার ব্যবস্থাপক মো. বদরুল ইসলাম বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আগে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এই সেবাটা দিতাম। এখন সময় বাড়িয়ে বিকাল ৩ পর্যন্ত টাকা জমা নিচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, প্রাইভেট ব্যাংকের জন্য সামনে দীর্ঘ লাইন ভালো দেখায় না। বিআরটিএ যদি আরো ৫ টি ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার ব্যবস্থা চালু করে তাহলে মানুষের ভোগান্তি কমবে।
জেলা বিআরটিএ অফিসের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মো. ডালিম উদ্দীন বলেন, ডাচ বাংলা ব্যাংকে ভিসা ডেবিট কার্ড এবং সিটি ব্যাংকের নেক্সাস কার্ড যদি কারো থাকে তাহলে সে রাত ১১ টা পর্যন্ত টাকা জমা দিতে পারবে। অন্যান্য ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার ব্যবস্থা উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা যদি চান তাহলে হবে। এখানে আমাদের করার কিছু নেই।