বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন পেছানো সহ দলে অনুপ্রবেশ নিয়ে দুই বলয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনের সাধারণ কর্মী থেকে নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করছেন। এ কারণে জামালগঞ্জে উত্তেজিত আওয়ামী রাজনীতি।
এমপি রতন সমর্থক নেতাকর্মীরা বলছেন, দলে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন রেজাউল করিম শামীম। সাংসদ রতনের ঘনিষ্ঠজন বলে বিবেচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মুকিত চৌধুরীসহ বিতর্কিত ব্যক্তিদের আওয়ামী লীগে টেনে এনেছেন তিনি। দলে যাদেরকে রাজাকার-বিএনপি বলা হচ্ছে তারা শামীমের সৃষ্টি।
অপরদিকে শামীম সমর্থকেরা সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনকেই দোষারোপ করছেন, তাদের দাবি সাংসদ রতন জামালগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকারী পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির চিহ্নিত নেতাকর্মীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করছেন। জামালগঞ্জ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মো. রজব আলী, ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়াসহ বিএনপি-জামায়াত ঘরানার লোকদের নিয়ে তিনি পথ হাঁটছেন। দলে অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই দিয়ে আওয়ামী লীগের চেতনা ও আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করছেন বলে অভিযোগ শামীম সমর্থিত নেতাকর্মীদের।
শামীম-রতন দুই গ্রুপের রাজনীতি নিয়ে উপজেলা কৃষক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আলী আমজাদ বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে তারা মূলত শামীম সাহেবের হাত ধরেই দলে এসেছেন। বিভিন্ন কারণে তারা এখন সাংসদ রতনের ঘনিষ্টজন।’ উপজেলা আ’লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের এক-চতুর্থাংশই শামীম সমর্থক স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘পদ-পদবীসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তৃণমূল নেতাকর্মীরা তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।’
জামালগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আওয়ামী লীগের পদ প্রত্যাশী আবু তাহের তালুকদার বলেন, ‘রাজনীতিতে সুবিধা নিতে অনেকেই দল বদল করেছেন, একমাত্র শামীম সাহেব আওয়ামী লীগের ব্যাপারে কখনও মাথা নত করেননি। আর সাংসদ রতন সাহেব শামীমের হাত ধরেই রাজনীতিক হয়েছেন।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সমরেন্দ্র আচার্য্য শম্ভু বলেন, ‘বর্তমানে অনুপ্রবেশকারী বিতর্কিতরা কার ছত্রচ্ছায়ায় রাজনীতি করছে, সেটা রাজনীতি সচেতন মানুষ ভালো জানেন। আমরা চাই দীর্ঘদিন যাবৎ যারা দলকে সংঘটিত ও গতিশীল রেখেছেন সেইসব ত্যাগী-স্বচ্ছ নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত কমিটি গঠন করা হোক।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি ও ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার বলেন, ‘রাজনীতিতে কখন কি হয় বলা যায় না। আজ যারা শামীমের, কাল তারা রতনের অনুসারী। এইটাই বর্তমান রাজনীতির চলমান ধারা।’
তিনি বলেন, প্রকৃত সত্য হচ্ছে আওয়ামী লীগে যে অনুপ্রবেশ ঘটেছে, তা শামীমের হাত ধরেই ঘটেছে। এখন তারা নৌকার পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে রতনের পিছু নিয়েছে। আর রতনও তা গ্রহণ করে নিয়েছেন।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন জানিয়েছেন, আগামী জানুয়ারিতে উপজেলা সম্মেলন হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারী যেই হোক, যার মাধ্যমেই আসুক আগামী কাউন্সিলে যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়া হবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও দলের নির্দেশনা অনুযায়ী শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে আমরা দলকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করব।’
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন মুঠোফোন রিসিভ না করায় ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম শামীম বললেন পরে বক্তব্য জানাবেন এজন্য তাদের বক্তব্য যুক্ত করা যায় নি।
- কর্মসূচি ছাড়া কোন সংগঠন, কর্মী বাঁচতে পারে না -পীর মিসবাহ্
- আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য হলেন আপ্তাব উদ্দিন


