সাদকাতুল ফিতর ও আমাদের করণীয়

মাও.মুহাম্মদ এমদাদুল হক
সাদকাতুল ফিতর: মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের উপর সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব।  এরূপ সম্পত্তি বর্ধনশীল হওয়া জরুরি নয়। গম, গমের আটা, জবের আটা এবং খেজুর ও কিসমিস দ্বারা ফিতরা আদায় করা যায়। গম বা গমের আটা দ্বারা ফিতরা আদায় করলে ১ সা (১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং জব বা জবের আটা কিংবা খেজুর দিয়ে সাদকাতুল ফিতর আদায় করলে ১ সা (৩ কেজি ৩২৫ গ্রাম) দিতে হবে। রুটি, চাউল বা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফিতরা দিতে হলে তার মূল্য হিসাবে দিতে হবে। কিসমিস দিয়ে ফিতরা আদায় করলে ১ সা ( ১ কেজি ৬০ গ্রাম) ফিতরা আদায় করতে হবে।
সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার সময়: ঈদুল ফিতরের দিন সুবেহ সাদিক হওয়ার পর। সুবেহ
 সাদিকের পূর্বে কেউ মারা গেলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। সুবেহ সাদিকের পর কোনো সন্তান জন্মগ্রহণ করলে কিংবা কেউ মুসলমান হলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। অনুরূপ কোনো দরিদ্র ব্যক্তি সুবেহ সাদিকের পূর্বে বিত্তশালী হলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে। ধনী ব্যক্তি এর পূর্বে দরিদ্র হয়ে গেলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। ঈদুল ফিতরের দিনের পূর্বে ফিতরা আদায় করা জায়েজ। ঈদুল ফিতরের দিন আদায় না করলে তার পরে আদয় করতে হবে। ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব। নিজের এবং নিজের নাবালিকা সন্তানের পক্ষ থেকে সাদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। স্ত্রী এবং বালেগ সন্তানগণ তারা তাদের ফিতরা নিজেরাই আদায় করবে । স্বামী এবং পিতার উপর তাদের ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়, অবশ্য দিয়ে দিলে আদায় হয়ে যাবে। নিজ পরিবারভূক্ত নয় এমন লোকের পক্ষ থেকে তার অনুমতি ছাড়া ফিতরা দিলে আদায় হবে না। কোনো ব্যক্তির উপর তার পিতা-মাতা এবং ছোট ভাই বোন ও নিকট আত্মীয়ের পক্ষ হতে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব নয়। এক ব্যক্তির ফিতরা একজন মিসকিনকে দেওয়াই উত্তম। তবে একাধিক মিসকিনকি দেওয়া জায়েজ আছে। একজন লোকের উপর যে ফিতরা ওয়াজিব তা একজন মিসকিনকে দেওয়াও জায়েজ আছে।
আমরা অনেকেই ফিতরা দেই, তাকে যদি এটু চিন্তা করে দেই, তাহলে তার সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যাবে। যেমন আমরা যদি যৌথভাবে ৫/৭ জন লোকের পরিবারের ফিতরা একটা পরিবারকে দিয়া দেই তাহলে হয়ত তার ঈদের বাজার হয়ে যাবে। ছেলে মেয়ের পোষাক হয়ে যাবে। আনন্দের সহিত ঈদ কাটাবে। তাই যেন আমরা ঈদের আগে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা শুধু আটার দামে ফিতরা দেই, কিন্তু খেজুর বা কিসমিস এর দামে দেই না কেন? কারণ এগুলোর দাম বেশি। উচিত হচ্ছে সাধ্য মত দেওয়া। নি¤œবিত্তরা আটার দামে দিবে আর বিত্তবানরা খেজুর বা কিসমিস এর দামে দিবে। সবাই যদি সস্তা খোঁজেন তাহলে গরীব ও ধনীর পার্থক্য থাকে না। অনেকেই ঈদের দিন ফিতরার হিসাব না করে দশ বিশ টাকা করে অনেককে দেন, তাতে কিন্তু আপনার ফিতরা আদায় হবে না।
লেখক. প্রিন্সিপাল হযরত খাদিজাতুল কুবরা ইসলামিয়া বালিকা মাদরাসা আপ্তাবনগর, সুনামগঞ্জ।