আকরাম উদ্দিন
শহরের ঐতিহ্যবাহী সরকারী সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (এস.সি) দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ২৪ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ২৮ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে আসছেন। বিদ্যালয়ে প্রায় ৭ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেই। সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত অসীম চন্দ্র বর্মন জানান, শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় করে প্রতিদিন ১জন শিক্ষককে অন্তত: ৫-৬টি বিষয়ে পাঠদান করতে হয়। যে বিষয়ে শিক্ষক নেই, সে বিষয়েও অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকদের পাঠদান করতে হচ্ছে। ইংরেজি শিক্ষকের পদ আছে ৮টি, শিক্ষক আছেন মাত্র ৩ জন। সমাজ বিজ্ঞান, ভূগোল, তথ্যপ্রযুক্তি, চারুকারু, জীববিজ্ঞানের শিক্ষক নেই। হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নেই, পদও নেই। বিভিন্ন বিষয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। আছে বিদ্যালয়ে কর্মচারী সংকট। অফিস সহকারী ২ জনের পদ শূন্য, চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী পদ ৬টির মধ্যে ৩টি শূন্য।
সরকারী সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪০ সালে, জাতীয়করণ হয় ১৯৬৮ সালে। বর্তমান জায়গার পরিমাণ প্রায় ২ একর। বিদ্যালয়ে এ বছর জেএসসিতে ২৩৩ জন অংশ নিয়ে সবাই পাশ করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১
জন। গত বছর ছিল ২৪০ জন, পাশ শতভাগ। জিপিএ-৫ ছিল ৩৪ জন। বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ছিল ১১৯৪ জন।
বিদ্যালয়ে আছে টিনশেড ভবন ১টি, দ্বিতল ভবন ২টি। এসব ভবনে ১৪টি শ্রেণী কক্ষ আছে। আরও অন্তত: ১০টি শ্রেণী কক্ষ প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে ছাত্রী মিলনায়তন নেই। একাধিক শ্রেণী কক্ষে ছাদের সিলিং নষ্ট। পর্যাপ্ত ওয়াস রুম নেই। নেই ওয়াস ব্লকও। বিদ্যালয়ে মেরামত কাজ হয়নি দীর্ঘ ৫ বছর যাবত।
১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুইটি আক্তার মৌ ও অদিতি তালুকদার বলেন,‘আমাদের বিদ্যালয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। বিদ্যালয়ে যে ওয়াস রুম আছে, তা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই একটি ওয়াস ব্লক জরুরি প্রয়োজন। এছাড়া আমাদের বিদ্যালয়ে ছাত্রী মিলনায়তন নেই। ছাত্রী মিলনায়তন নির্মাণের দাবি আমাদের।’
শিক্ষার্থী অভিভাবক মো. আজমল হোসেন বলেন,‘সরকারী এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এই বিদ্যালয়ে যদি শিক্ষক সংকট থাকে, তাহলে লেখাপড়ার অগ্রগতি হবে না। কারণ একেক জন শিক্ষক একাধিক বিষয়ে পাঠদান করে হাঁপিয়ে ওঠেছেন। শিক্ষকদের অবস্থা দেখে শিক্ষার্থীরাও অমনোযোগী হয়ে পড়ে। সার্বিক বিবেচনায় এই সমস্যা সমাধান জরুরি প্রয়োজন।’
সরকারী সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী বলেন,‘বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট আছে ২২ জন। গত বছর ডিসেম্বর মাসের ২৮ ও ৩১ তারিখ আরও ২ জন শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে চলে যান। প্রায় ৭ বছর যাবত প্রধান শিক্ষক নেই। আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এমন সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে শিক্ষকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। এই সমস্যা সমাধান একান্ত জরুরি।’
- জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল মনাফের মরদেহ বৃহস্পতিবার দেশে আসছে
- সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র রাসেল জেল হাজতে


