বিশেষ প্রতিনিধি
২০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে ৬ বছর পার করেছে সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। জেলা কমিটির কারোরই কার্যত ছাত্রত্ব নেই। কেউ কেউ বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশন ফি’ জমা দিয়ে আইনের ছাত্র হয়ে ছাত্রত্ব রেখেছেন নতুন কমিটিতে পদ পাবার প্রত্যাশায়। ছয় বছর আগের ত্রিধাবিভক্ত জেলা আহ্বায়ক কমিটির ১৫ জনেই এখন বিবাহিত। অনেকের সন্তানরা মাধ্যমিক স্কুলেও পড়ে। এই অবস্থায় এই মাসেই সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে সংগঠনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বর নুরুল ইসলাম নুরুলকে আহ্বায়ক, আমিনুর রশিদ আমিনকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২০ সদস্যের জেলা আহ্বায়ক কমিটি করে দেওয়া হয় জেলা ছাত্রদলের। প্রথমে সংগঠন ছিল দুই গ্রুপে বিভক্ত। একাংশের নেতা ছিলেন নুরুল ইসলাম নুরুল, অন্য অংশের আমিনুর রশিদ আমিন।
গত দুই বছর ধরে সংগঠন হয়েছে ত্রিধাবিভক্ত। তৃতীয় অংশের নেতৃত্বে আছেন অপর যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল হক শফিক।
সংগঠনের একাধিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি শেষ করে এখন সনদ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর রশিদ আমিন দুইবার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাথারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সম্প্রতি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
অপরাংশের নেতা যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল হক শফিক দাবি করলেন, তিনি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এলএলবি’র ছাত্র। জেলা ছাত্রদলের ২০ সদস্যের কমিটির আহ্বায়কসহ তারা ৫ জন অবিবাহিত। শফিকুল হক বলেন,‘ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেশের ৩৪ টি সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটি এই মাসে দেবার জন্য কাজ করছেন, এর মধ্যে সুনামগঞ্জও আছে’।
জেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ২০ সদস্যের জেলা ছাত্রদলের দায়িত্বশীলদের কার্যত কারোরই ছাত্রত্ব নেই। কোনভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি দেখিয়ে নতুন কমিটিতে নেতৃত্ব পাবার জন্য ছাত্র দাবি করছেন তারা।
জেলা ছাত্রদলের অপর যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান রাজু অবশ্য বলেছেন, ‘আমি সিলেট ল’ কলেজের নিয়মিত ছাত্র, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল এলএলবি শেষ করে সনদ পরীক্ষা দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন’।
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ আমিন বলেন,‘ছাত্রদলের কমিটি ৬ বছর আগে হয়েছে। অনেকে নিস্ক্রিয় বা ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। আমি চাই নতুন কমিটি করে যোগ্যদের হাতে ছাত্রদলের নেতৃত্ব তুলে দিতে। আমার জানা মতে যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ শফিক সিলেট ল’কলেজের ছাত্র। অপর যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন খান ময়না উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন’।
সৈয়দ শফিক বলেন,‘আমি বিবাহিত, তবে সিলেট ল’ কলেজের স্টুডেন্ট আমি’।
পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাড. শেরেনুর আলী বলেন,‘ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল ও কামরুল হাসান রাজু ছাড়া অন্য কারো ছাত্রত্ব আছে বলে জানা নেই আমার’।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক নাদীর আহমদ বলেন,‘৬ বছর আগের কমিটি। এই কমিটির অনেকে ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। সংগঠনকে আরো গতিশীল করার জন্য তরুণ এবং নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে ছাত্রদলের কমিটি করতে হবে’।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুস ছাত্তার পাটোয়ারি বলেন,‘যখন কমিটি দেওয়া হয়েছিল, তখন কমিটির দায়িত্বশীলরা নিয়মিত ছাত্র ছিলেন। বিবাহিত-অবিবাহিত কোন বিষয় নয়, যারা সংগঠনের ক্রাইসিসে মুঠোফোন বন্ধ রাখেননি, জেল খেটেছেন, হুলিয়া মাথায় নিয়ে নেতা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন, তাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে, সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিটে সংগঠন গুছানো শুরু হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা কমিটিও এই প্রক্রিয়ায় আছে’।


