ডাক্তারবিহীন সদর পশু হাসপাতাল

স্টাফ রিপোর্টার
গত ৯ জুলাই রবিবার ঈদের সরকারি ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও ডাক্তার না থাকায় কম্পাউন্টার দ্বারা চিকিৎসা চলছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের পশু হাসপাতালে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা অসুস্থ পশুকে চিকিৎসা করাতে নানা বিড়ম্বনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে পশুর মালিকদের। ডাক্তার না থাকায় বাধ্য হয়ে হাসাপাতালে দায়িত্ব কম্পাউন্ডার ও অফিস সহায়কের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাদের। একইসাথে ঔষধগুলোও বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে ।
সোমবার দুপুরে সদর উপজেলা ও জেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দায়িত্বরত চিকিৎসক উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মর্কতা মো.আব্দুল মোতালিব (হাবিব) হাসপাতালে অনুপস্থিত। তিনি অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় রয়েছেন বলে অফিস থেকে জানানো হয়। তাই তার পরির্বতে হাসপাতালে অসুস্থ পশুর চিকিৎসা দিচ্ছেন তাঁর সহকারি মখলেছুর রহমান।
অসুস্থ পশুর ড্রেসারে দায়িত্বরত আব্দুন নূর ও এফএআই রতন দাসও সোমবার হাসপাতালে অনুপস্থিত ছিলেন। অফিস সহকারি রবিউল হকের সাথে কথা বলে জানা যায়,আব্দুন নূর ও রতন দাস  ফিল্ডে আছেন। তারা ফিল্ডে অসুস্থ পশুর চিকিৎসা করতে গেছেন বলেন দাবি রবিউল হকের।
জানা যায়, সদর  উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি থাকার কথা। কিন্তু উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাসহ আছেন মাত্র ৫ জন। অন্যপদগুলি শূন্য রয়েছে।
ডা.আব্দুল মোতালেব এর সহকারি মুখলেছুর রহমান বলেন,‘স্যার অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় আছেন, দুয়েক দিনের মধ্যে তিনি চলে আসবেন। উনার পরিবর্তে আমি পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি।  
মোহনপুর ইউনিয়নের বইষভেড় থেকে পাতি হাঁস নিয়ে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন,‘আমি অনেক দূর থেকে আসছি কিন্তু ডাক্তার সাব হাসপাতালও নাই। আমার ১৫০ হাঁসের মাঝে রোগ দেখা দিছে। তাই বেকছিন নেয়া লাগে। ডাক্তার সাবরে পাইনি। অফিস সহকারি রবিউল সাব ফার্মেসী থেকে ভেকসিন নেওয়ার জন্যে খইছইন। কোন উপায় না পেয়ে ১৬০ টাকা দিয়ে ২টি বেকছিন কিনছি।
শহরের বড়পাড়া এলাকা থেকে আসা আমিনা বেগম বলেন,‘ আমি একটি ছাগল নিয়ে এসেছি। গতকাল ছাগলটিকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। ডাক্তার সাব ছাগলটিকে একটি ইনজেকশন দিয়েছেন। বলছেন পরে দেখা করতে। আজকে বুঝি ডাক্তার নেই।
সদর  উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার মো.আব্দুল মোতালিব এর ব্যক্তিগত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো.আজহারুল ইসলাম বলেন,‘উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন। মঙ্গলবারে চলে আসবেন। পশু চিকিৎসার সংকটের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে তিনি বললেন, আমাদের করার কিছুই নাই। ডাক্তার ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে সহকারিরাই চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।’