বিশেষ প্রতিনিধি
বিদ্যালয়ের চত্বরই আলোকিত হয়ে ওঠেছে। চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ ঘেঁষে জাতীয় শহীদ মিনারের আদলে তৈরি হয়েছে শহীদ মিনার। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় এই দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার তৈরি হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মাসতুরা-মবশি^র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় চেতনার এই মিনারটি তৈরি হয়েছে। গত একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে এই শহীদ মিনারটির উদ্বোধন করেছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এমন শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে ৬ টি বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে মাসতুরা-মবশি^র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেরীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আহমদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারকিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাধকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গত কয়েক বছরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় এই শহীদ মিনারগুলো গড়ে ওঠেছে।
সাধকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজিত কুমার দেব জানালেন, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হক শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। ইউপি সদস্য মতিউর রহমানের তত্বাবধানে শহীদ মিনারটির নির্মাণ কাজ করা হয়।
মাসতুরা-মবশি^র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল চন্দ্র শীল জানালেন, তার জানা মতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার হয়েছে তার বিদ্যালয়েই।
তিনি জানান, শহীদ মিনারটির ডিজাইন ঢাকা থেকে তৈরি করে এনেছেন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। পরে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন স্থানীয় কোরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল বরকত।
এই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ও ফাতেহা আক্তার, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তায়িব রশিদ ও পাপন চন্দ জানালো, বিদ্যালয় চত্বরে বড় আঙ্গিকের এই শহীদ মিনার হওয়ায় তারা আনন্দিত। সকল জাতীয় দিবসেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ হয়েছে তাদের।
কোরবাননগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বরকত বললেন, লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রোগ্রাম (এলজিএসপি’র)’এর বরাদ্দ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে মাসতুরা-মবশি^র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। বরাদ্দের চেয়ে কিছু বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে শহীদ মিনার নির্মাণে, ওই টাকা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি জানান, শহীদ মিনারের কাজ করানোর সময় উপজেলা প্রকৌশল অফিসের মাধ্যমে করাতে চেয়েছিলেন তারা। কিন্তু উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে জানানো হয়, আরও বেশি টাকা লাগবে শহীদ মিনার নির্মাণ করতে। পরে তারা নিজেরা উদ্যোগ নিয়েই করেছেন। তবে উপজেলা প্রকৌশল অফিস নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সোলেমান মিয়া জানান, সদর উপজেলার ৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয়দের উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে। সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন হয়েছে মাসতুরা-মবশি^র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন তারা।
- ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে হবে-পরিকল্পনামন্ত্রী
- জগন্নাথপুরে পাঁচ ইউনিয়ন আ.লীগের কমিটি গঠন


