এনামুল হক এনি, ধর্মপাশা
ত্রিমূখী সড়কের একপাশে লেগুনা অন্যপাশে মোটর সাইকেল। লেগুনা ও মোটর সাইকেলের আশপাশে ভটভটি, রিকশা ও ইজিবাইকসহ নানান যানবাহন। যাত্রীরা কেউ লেগুনায়, কেউ মোটর সাইকেল আবার কেউ ভটভটি কিংবা রিকশা ও ইজিবাইকে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় জড়ো হলেও একই জায়গায় সব যানবাহন থাকায় তাঁদের পছন্দমত যানবাহনে উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। স্ট্যান্ডে কোনো যাত্রী এলে যানবাহন শ্রমিকরা স্ব-স্ব যানবাহনে যাত্রীদের তুলতে গিয়ে প্রতিযোগিতায় নামেন। ফলে দূর দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীদেরকে শ্রমিকদের অশুভ প্রতিযোগিতায় নাকাল হতে হয়।
এটি ধর্মপাশা উপজেলার হাসপাতাল রোডস্থ ধর্মপাশা-মোহনগঞ্জ সড়কের ত্রিমুখী মোড়ের চিত্র। এই ত্রিমুখী মোড় থেকে যাত্রীরা রাজনগর, আহম্মদপুর, সৈয়দপুর, মাটিকাটা, বাদশাগঞ্জ, পাইকুরাটি, গাছতলা, মধ্যনগর হয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন। ত্রিমুখী স্ট্যান্ড ছাড়াও ধর্মপাশায় যেখানে সেখানে বিভিন্ন যানবাহনের স্থায়ী বা অস্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে লেগুনা ও ভটভটি স্ট্যান্ড এবং ফিউচার লিডার কিন্ডার গার্টেন সংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এ সকল স্ট্যান্ড থেকে যাত্রীরা হলিদাকান্দা, মহদিপুর, কান্দাপাড়া, জয়শ্রী হয়ে বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। ধর্মপাশা মধ্যবাজারস্থ শয়তানখালী ব্রীজের উপরেও রিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ধর্মপাশা থানা সংলগ্ন ধর্মপাশা-বারহাট্টা সড়কেও অস্থায়ীভাবে
সিএনজি, রিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবহনের অস্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে।
প্রতি বৃহস্পতিবার এখানে হাট বসে। এখানাকার গরু হাট প্রসিদ্ধ হওয়ায় দূর দূরান্ত থেকে গরু ক্রয় করতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা আসেন। এসব পাইকার বা ক্রেতারা গরু বহনের জন্য লেগুনা নিয়ে আসেন। এ সকল লেগুনা ওই সড়কে আধা কিলোমিটার জায়গা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে রাখায় সাধারণ মানুষসহ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। থানার সামনে কংস ব্রীজের পুরোটাই রিকশা, ইজিবাইকসহ মোটরসাইকেল, ভটভটির অস্থায়ী স্ট্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এতে করে ব্রীজের সৌন্দর্য্য হ্রাসের পাশাপাশি স্বাভাবিক যান চলাচলে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘আমরা ধর্মপাশাবাসী’র সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিদুল হক সাজু জানান, ধর্মপাশা থানা সংলগ্ন ধর্মপাশা-বারহাট্টা সড়কে প্রতিদিন সিএনজি, রিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবহন এলোপাতাড়িভাবে রাখা হয়। ফলে পথচারী চলাচল ও অন্যান্য যান চলাচল মারাত্মভাবে বিঘিœত হয়। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার ধর্মপাশায় হাট বসলে স্থানীয় গরুর বাজারে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা ওই সড়কের প্রায় আধা কিলোমিটার জায়গা জুড়ে লেগুনা পার্কিং করায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ধর্মপাশা উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি নয়ন মিয়া জানান, ধর্মপাশা উপজেলা সদরে যানবাহনের জন্য নির্ধারিত কোনো জায়গা বা স্ট্যান্ড না থাকায় যানবাহনের ড্রাইভারসহ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় যদি নির্ধারিত স্থানে স্ট্যান্ড করা হয় তাহলে সকলের জন্যই উপকারী হবে।
ধর্মপাশা উপজেলা লেগুনা ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এসএম রহমত জানান, উপজেলা পরিষদের পুকুরপাড়ে স্ট্যান্ড করে দেওয়ার জন্য আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছিলাম কিন্তু এটি প্রধান সড়কে হওয়ায় তা আর হয়ে উঠেনি। ধর্মপাশা-জয়শ্রী সড়কের পাশে সুবিধাজনক সরকারি খালি জায়গায় যদি প্রশাসনের উদ্যোগে যানবাহনের জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড করে দেওয়া হয় তাহলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
ধর্মপাশা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি চয়নকান্তি দাস জানান, ধর্মপাশা উপজেলা সদরে হাসপাতাল রোডস্থ ত্রিমুখী মোড়ে, থানা সংলগ্ন এলাকায়, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় পৃথক পৃথকভাবে যানবাহনের জন্য তিনটি স্ট্যান্ড গড়ে তোলা প্রয়োজন। এখন যেভাবে যত্রতত্র স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে তাতে পথচারী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন এ ব্যাপারে উদ্যোগী না হলে এ সমস্যা নিরসন কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়।
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, প্রতি বৃহস্পতিবার ধর্মপাশা বাজার থেকে গরু পরিবহনের জন্য যে সকল লেগুনা থানার বাম পাশে রাখা হয় তা ধর্মপাশা গ্রামের পশ্চিমে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, সরকারি জায়গা না থাকায় উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না। যদি সরকারি জায়গা পাওয়া যায় বা ব্যক্তিগতভাবে কেউ জায়গা দিতে প্রস্তুত থাকে তাহলে প্রশাসনের উদ্যোগে যানবাহনের জন্য স্ট্যান্ড করে দেওয়া যেতে পারে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মোতালিব খান জানান, এ ব্যাপারে পরিকল্পনা রয়েছে তবে জায়গা না থাকায় এর বাস্তাবায়ন সম্ভব নয়। এখানে হাটের দিনে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যদি স্ট্যান্ডগুলো বাজার বা যেখানে আছে সেখান থেকে বাইরে অন্য কোথায় স্থানান্তর করা যায় তাহলে দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।


