আমবাড়ী-কাটাখালী সড়ক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন এলাকাবাসীর

বিন্দু তালুকদার
সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে সড়ক পথে আমবাড়ি বাজার-কাটাখালী বাজার হয়ে ছাতকের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। এই রাস্তার সুনামগঞ্জ শহরের শেষ প্রান্ত থেকে কাটাখালী বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ)। কাটাখালী বাজার থেকে ছাতক পর্যন্ত এলজিইডির। এই রাস্তার আমবাড়ি বাজার এলাকা থেকে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এখন স্থানীয় এলাকাবাসী ও যাতায়াতকারীদের জন্য ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সড়কের এই অংশটুকু ভেঙেচুরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যানচলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। এরপরও এলাকাবাসী এই সড়ক পথেই চলাচল করছেন নিতান্ত বাধ্য হয়ে। ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলের সময় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন সরকারকে গালিগালাজ পর্যন্ত করছেন অনেকেই।
এই সড়কের ভাঙা অংশের দুর্ভোগ বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জেলা উন্নয়ন সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। সভায় সওজ কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি মেরামতের জন্য বললেও এখন পর্যন্ত তাদের কোন উদ্যোগ নেই। তবে স্থানীয় এলাকাবাসী এই সড়কের রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসাবে এখনও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কে মনে করে তাদেরকেই দোষারুপ করেন। তবে গত বছর ওই সড়কের আমবাড়ি বাজার থেকে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের নিকট থেকে দোয়াবাজার উপজেলার আমবাড়ি বাজার এলাকা পর্যন্ত রাস্তাটি মোটামুটি ভাল। এর পর থেকে পুরো রাস্তায় ভাঙা আর গর্তে ভরপুর। জালালপুর গ্রামের কাছে দু’টি জায়গা সিএনজি গাড়ির চেয়েও বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। এসব গর্ত ও ভাঙাচোরা রাস্তার উপর দিয়েই প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন আসা যাওয়া করায় দিনে দিনে ভাঙা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জালালপুর গ্রামের কৃষক শুকুর আলী বলেন,‘এই রাস্তা গত দুই বছরের বেশী সময় ধইরাই নষ্ট। ঠিক করনের লাগি কোন উদ্যোগ নাই। গাতা দিনে দিনে বাড়তাছে। ইতার উপর দিয়াই মানুষ অনেক কষ্ট কইরা আওয়া যাওয়া করের।’
সিএনজি চালক মো. রফিক বলেন,‘ ভাই আমবাড়ি-কাটাখালী রাস্তার যে দশা কিতা কইতাম। ইবায়দি গাড়ি লইয়া আইলে-গেলে গাড়ি ও নিজের জানের কাম শেষ অইযায় গি। কয়দিন পরই গাড়ির পার্স বদলানি লাগের। রাস্তাত ইয়া বড় বড় ভাঙা, কোন দিন ঠিক করব আল্লাই জানে।’
এলাকার বাসিন্দা স্থানীয় মান্নারগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাটাখালী বাজার পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি অসীত কুমার দাস বলেন,‘কাটাখালী বাজার থেকে ছাতক পর্যন্ত এলাজিইডির পুরো রাস্তাই খুব ভাল ও সুন্দর। কিন্তু কাটাখালী থেকে আমবাড়ি পর্যন্ত ভাঙা রাস্তার কারণে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নাই। গত দুই বছর ধরেই আমরা এই রাস্তার দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। এই কয়েক কিলোমিটার রাস্তা একদিন যাতায়াত করলে কয়েক দিন কোমড়ে ব্যাথা করে। অবস্থা এমন যে কোন গর্ভবর্তী মহিলাকে এই রাস্তার উপর দিয়ে নিয়ে গেলে গাড়ির ঝাকুনিতে মাঝ পথেই সন্তান হয়ে যাবে, হাসপাতালে যেতে হবে না। আমরা শুধু শুনেছি রাস্তা মেরামত করার জন্য টেন্ডার হয়েছে তবে কাজ কবে হবে এলাকার কেউ জানে না। এই কয়েক কিলোমিটার ভাঙা সড়কের জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে। অনেকেই রাগে ও ক্ষোভে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্যে গালিগালাজ করেন। ’
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল আমিন বলেন,‘ সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে আমবাড়ি বাজার-কাটাখালী বাজার হয়ে ছাতক পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি এক সময় এলজিইডির আওতাধীন ছিল। গত বছর এই সড়কের সুনামগঞ্জ থেকে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গত বছর আমরা সুনামগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী ১৩০০ মিটার মেরামত করেছি। সামনের আরো কিছু অংশ মেরামতের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি কিছু বরাদ্দ পাওয়া যাবে, বরাদ্দ পাওয়ার পর পরই জায়গাটুকু মেরামত করা হবে।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীর প্রতীক বলেন,‘সুনামগঞ্জ থেকে কাটাখালী বাজারের ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামত করার জন্য আমি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় কথা বলেছি। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেব বলেছেন এই রাস্তাটি একসময়ে এলজিইডির ছিল। নতুনভাবে উনারা নিয়েছেন। ভাঙা রাস্তায় ইট সলিং করার কথা বলেছিলেন, কিছু কিছু জায়গায় ইট দেয়া হয়েছে। আগামী শুকনো মৌসুমে রাস্তাটি সংস্কার করে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’