আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার তিন ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চলাচলের কাজে ব্যবহৃত হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা ও ডলুরা সড়ক। দীর্ঘ ৬ বছর যাবত হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা সড়কের সংস্কার কাজ না হওয়ায় এখন জন ও যান চলাচলে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তবে এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমদ জানিয়েছেন, এ বছর ৬ কি.মি. রাস্তার সংস্কার কাজের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলে কাজ করা হবে।
হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা এলাকার মানুষের শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে এই সড়ক। জনচলাচলের এই প্রধান সড়কটি সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হলেও রঙ্গারচর ইউনিয়নের মানুষজনও এই সড়ক দিয়ে সহজে চলাচল করে থাকেন।
হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা হয়ে ডলুরা শহীদ মিনার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। তবে হালুয়ারঘাট-মঙ্গলকাটা পর্যন্ত সড়কে বড় বড় গর্ত ও ঢালাই উঠে রড ও সিমেন্ট বেরিয়ে পড়েছে।
এদিকে, হালুয়ারঘাট বাজারের প্রবেশমুখে সড়কের অবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কের বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকে। হালুয়ারঘাট বাজারের ভেতরে সড়কের মধ্যেও রয়েছে বড় বড় গর্ত ও কাদা। যেকোনো সময় যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ার আশংকা রয়েছে।
এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন শুধুমাত্র অটোরিক্সা ও মোটরবাইক রয়েছে। এসব যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে বলে জানান চালকরা। তারা আরও জানান সংস্কারের অভাবে সড়কের এমন গর্ত হয়েছে একমাত্র মোটর বাইক ছাড়া এই সড়কে আর কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারে না।
মোটরবাইকের চালক আমির হোসেন বলেন, ‘আমি মোটরবাইক চালাই কিন্তু মোটরবাইকটি প্রতিদিন মেরামত করতে হয়। প্রতিদিন আমার মোটরবাইক মেরামত করতে টাকা খরচ হয়। এই রাস্তায় মোটরবাইক চালাতে জ্বালানীও বেশি লাগে।’
অটোরিক্সার যাত্রী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমার বয়স হয়েছে, তবুও জরুরি প্রয়োজনে শহরে যেতে হয়। গাড়ি করে আসা যাওয়ায় যে ঝাঁকুনি হয় এতে আমার মারাত্মক কষ্ট হয়। কয়েক বছর আগে এই সড়কের মেরামত কাজ হয়, তখন সড়কের নি¤œমানের কাজ করতে গিয়ে ঠিকাদারের লোকজন বেআইনীভাবে সড়কে মানুষের চলাচল বন্ধ করে তাদের মতো করে কাজ করে। পরে এক মাসের বৃষ্টিতে সড়কের সব ঢালাই ধুয়েমুছে যায়। পরে মারাত্মক ক্ষতি হয় সড়কের।’
বেলাবর হাটীর আসক মিয়া ও হালুয়ারঘাটের সুলতান মিয়া বলেন, ‘সড়কের কাজ না হওয়ায় মানুষের মারাত্মক দুর্ভোগ হচ্ছে।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য খসরু মিয়া বলেন, ‘এই সড়কের কাজ হয়েছে প্রায় ৫ বছর আগে। কিন্তু সংস্কার কাজ করার ১ মাসের মধ্যে বৃষ্টির পানিতে সকল ঢালাই ধুয়ে মুছে যায়। পরে এই যে সড়র নষ্ট হলো আর কোনো কাজ হয়নি। মানুষজন ও রোগীরা এতো কষ্ট করে আসা যাওয়া করেন তা দেখলে মনে খুব কষ্ট হয়।’
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইকবাল আহমদ বলেন, ‘এ বছর ৬ কি.মি. রাস্তার সংস্কার কাজের জন্য প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হয়ে আসলে কাজ করা হবে।’


