সিলেট অফিস
করাত কল স্থাপনে পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে দায়েরকৃত এক মামলায় পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের সাবেক উপ পরিচালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বুধবার সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক (স্পেশাল) আকবর হোসেন মৃধার আদালত থেকে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হচ্ছেন, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের
সাবেক উপ পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক ফারুক আহমদ, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক ও নুরুজ্জামান দুদু। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ও পরিদর্শক ২০১০ সালের দিকে সিলেটে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তাঁরা বদলি নিয়ে অন্যত্র কর্মরত রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের বুড়িস্থলের বাসিন্দা আবদুর রহিম ২০১০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকের কাছ থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ করে একটি করাত কল (স মিল) স্থাপন করেন। পরবর্তীতে নুরুজ্জামান দুদু নামের এক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি দখল করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ছাড়পত্র নবায়ন করে দেন।
এ ব্যাপারে আবদুর রহিম পরিবেশ অধিদপ্তরে আপত্তি জানান। তা সত্ত্বেও ২০১১ সালে ছাড়পত্রের নবায়ন নুরুজ্জামান দুদুর নামে করা হয়। এ কারণে আবদুর রহিম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২০১৪ সালের ১৬ মার্চ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ দেন। আইনি নোটিশের কোনো জবাব না পেয়ে ৪ জুন সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেটের সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. নাজমুচ্ছায়াদাত গত ৫ জুন আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
মামলা পরিচালনায় থাকা সিলেটের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শহীদুজ্জামান চৌধুরী জানান, বুধবার আদালতে শুনানি শেষে চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছেন।


