জগন্নাথপুর পৌরসভার উপনির্বাচন স্থগিত

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
করোনাভাইরাসের কারণে জগন্নাথপুর পৌরসভার উপ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা থাকলেও করোনার প্রকোপ থাকা পর্যন্ত জগন্নাথপুরসহ দেশেও সকল নির্বাচন কার্যক্রম শনিবার স্থগিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
জানা গেছে, জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুল মনাফ গত ১১ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করলে এই পদটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন তফশিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফশিল অনুয়ায়ী আগামী ২৯ মার্চ ভোট গ্রহণ হওয়ার কথা। নির্বাচনে মেয়রপদে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। তাদের চার প্রার্থীর মধ্যেই তিনজনই লন্ডনপ্রবাসি। প্রবাসি অধ্যুষিত উপজেলায় সকল নির্বাচনী উৎসবে প্রবাসিদের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠে নির্বাচন। এবারের পৌর নির্বাচনে প্রবাসিদের অংশগ্রহণ তেমন নেই। নির্বাচনের প্রথম দিকে বেশি কিছু সংখ্যক প্রবাসি দেশে ফিরলেও করোনার প্রার্দুভার দেখা দেয়ার পর হাতেগুনা কয়েকজন দেশে ফিরে তাদের নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় করছেন। প্রবাসিদের অবাধে চলাফেরার ঝুঁকি দেয়া দেয় নির্বাচনী এলাকায়। এতে করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচন স্থগিত করতে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেছন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহ্ফুজুল আলম মাসুম বলেন, জগন্নাথপুর পৌরসভার উপ নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা কর্মচারীরা বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করছি। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি আজ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, জগন্নাথপুরে একটি প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা। সাস্প্রতিককালে ৫০০ বেশী প্রবাসী দেশে এসেছেন এরমধ্যে ৪৭ জন হোমকোয়ারেন্টিনে আছেন। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কাজ করছি। নির্বাচন স্থগিতের বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখেছি। আমরা এখন লিখিত কিছু পাইনি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহাকারি রির্টানিং অফিসার মুজিবুর রহমান নির্বাচন স্থগিতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জগন্নাথপুর পৌরসভার উপনির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্য প্রবাসি মিজানুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে কিছু জানি না। তবে এই মূর্হুতে দেশে যে পরিস্থিতি তাতে নির্বাচন স্থগিত করা উচিত।