‘জীবনে কল্পনাও করিনি গ্রামে বিদ্যুৎ আসবে’

বিন্দু তালুকদার,
মধ্যনগর থেকে ফিরে
‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনার সরকার কত উন্নয়ন করছে, তা গ্রামে না আসলে কেউ স্বচক্ষে দেখতে পারবে না। এত উন্নয়ন আর কোন সময়ে হয়নি। হাওরের বুকে মাটির রাস্তা তৈরি হয়েছে। স্কুল-কলেজের মেয়েরা লেখাপড়ার করার জন্য সরকারের কাছ থেকে উপবৃত্তির জন্য টাকা পাচ্ছে। শুধু এসব উন্নয়ন নয়, জন্মের পর থেকে দুর্গম হাওরে বসবাস করছি। যেখানে পায়ে হাটার জন্য কোন মাটির রাস্তাই ছিল না সেখানে এখন বিদ্যুৎ আসছে। জীবনে কল্পনাও করিনি আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ আসবে। যা হয়েছে তা শেখ হাসিনার সরকারের জন্য হয়েছে।’
গ্রামে বিদ্যুৎ আসায় তৃপ্ত সূরে হাসিমুখে এই কথাগুলো বলছিলেন ধর্মপাশা উপজেলার গোরমার হাওর পাড়ের নন্দীপাড়া গ্রামের বয়স্ক গৃহস্থ শ্যামকান্ত তালুকদার। নন্দীপড়া গ্রামটি বৃহত্তর টাঙ্গুয়ার হাওরের দক্ষিণে মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের একটি অবহেলিত গ্রাম।
শুধু নন্দীপাড়া গ্রামই নয় দুর্গম হাওরের মাঝে অবস্থিত একই এলাকার শাজাদপুর, কাহালা, বিশারা, কামারগাঁও, দরাপরপুর, নোয়াগাঁওসহ আশপাশের সকল গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শত বছরের অবহেলিত এসব গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের উদ্যোগে যারপরনাই মহাখুশি স্থানীয় লোকজন। হাওরের নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জীবন সংগ্রামে জয়ী এসব গ্রামের লোকজন শহরবাসীর মত উন্নয়ন জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখছেন। অনেকেই ছোটখাট মিল কারখানা করার উদ্যোগ নিবেন বলেও এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
জানা যায়, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের ৭টি গ্রামে পল্লী বিদ্যুতায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ওই গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের খুঁিট পুতা হয়েছে তার টানানো হয়েছে। স্থানীয় লোকজন বসতঘরে ওয়ারিং করে রেখেছেন এখন শুধু সংযোগ প্রদান করা। তাহলেই জ্বলে উঠবে আলো।
কাহালা গ্রামের বাসিন্দা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্স  পড়–য়া মেধাবী শিক্ষার্থী প্রবীর সরকার বলেন,‘ সরকার আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের সকল গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করবে এবিষয়টি অনেকের কাছে হাস্যকর বলে মনে হতে পারে। কিন্তু আমাদের গ্রামে যখন পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তখনই তা বাস্তবে রূপ পাচ্ছে বলে মনে হয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যে গ্রামে এখনও সরাসরি বাইসাইকেল যোগেও আসা যাওয়া করা সম্ভব হয় না। জেলা-উপজেলা সদরে গেলে ফিরতে প্রায় একদিন সময় লেগে যায়। সেই গ্রামে বিদ্যুৎ পাব আমরা কোন সময়ই ভেবেই পাইনি। কিন্তু সব হতাশা দূর করে আমরা এখন বিদ্যুতের আলো পাব। অন্ধকার দূর হয়ে আলোতে ভরে উঠবে হাওর পারের আমাদের গ্রাম।’
কামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রভাকর তালুকদার পান্না বলেন,‘ হাওরের অবহেলিত গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমরা এত তাড়াতাড়ি বিদ্যুৎ পেয়ে যাব তা ভাবিনি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর তনয়া প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। এসব কিছুই জন্য কৃতিত্বে দাবিদার তিনি। হাওরবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ।’
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অতিরিক্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন,‘ মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার লক্ষ্যে আমাদের পুল (খুঁটি) পোতা ও লাইন টানার কাজ শেষ। অনেক গ্রামের গ্রাহকরা ওয়ারিং করছেন তবে মিটারের ফি এখনও তারা জমা দেননি। এসব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংযোগ প্রদানের চেষ্টা করব।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,‘ বর্তমান সরকার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর। আমরা উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী, খাম্বার রাজনীতিতে নই। বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে সকল গ্রামকে বিদ্যুতের আওতায় আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাওরের এসব গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও এখন আলোর মধ্যে বসবাস করবেন। কেউ আর অন্ধকারে থাকবে না। মধ্যনগরের এসব গ্রামে বর্ষাকালের আগেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার চেষ্টা করা হবে।’