স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলার কিছুদিনের মধ্যে বোরো ধান কাটা শুরু হবে। অধিকাংশ হাওরে ধান পেকে গেছে। কিন্তু সংকট দেখা দিয়েছে ধান কাটা শ্রমিকের। করোনা দুর্যোগে এ বছর দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে শ্রমিক না আসার আশংকা করেছেন কৃষকরা। তারা না আসলে এবার শ্রমিক সংকট তীব্রতর হবে। প্রতি বছর জেলার বাইরের অনেক শ্রমিক সুনামগঞ্জে ধান কাটার জন্য আসেন। এ বছর না আসলে বিপাকে পড়বেন কৃষকরা। এই দুশ্চিন্তায সময় পার করছে কৃষকরা। একটি মাত্র ফসল বোরো উৎপাদনের উপর এই হাওর অঞ্চলের বেশীরভাগ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে নির্ভরশীল। উৎপাদিত ফসল স্থানীয় খাদ্য পূরণ করে জাতীয় খাদ্যেও যোগ হয়।
এদিকে এবার শ্রমিক সংকট নিরসনে সকল বালু মহাল ও বারকি শ্রমিকের কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে নিয়োজিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। আজ বৃহস্পতিবার থেকে কৃষি যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য জেলার সকল ওয়ার্কসপ ও সংশ্লিষ্ট সকল দোকানও খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, হাওরের বোরো ধান কাটার জন্য সকল কামার, ধানকাটার কাঁচির দোকান ও মাড়াইকাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামের দোকানও খোলা থাকবে।
তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কৃষিশ্রমিকরা হাওড় এলাকায় ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কজে আসবেন তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাওড় এলাকায় আগমন ও চলাচল নির্বিঘœ করতে সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ধান কাটাসহ সারাদেশে কৃষি উৎপাদন ও বিপণন অব্যাহত রাখতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও অনুসরণ করতে বলেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হাওড় এলাকায় ধান কাটা ও চলাচলকালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি হ্রাসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজের, কৃষকের ও শ্রমিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালন করবেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহান বলেছেন, শ্রমিক সংকট নিরসনে হাওড়ে ধান কাটার জন্য নিজ নিজ এলাকার কৃষিশ্রমিক নিয়োজিত করুন। বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক আনা থেকে বিরত থাকুন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।
তিনি বলেন, ধান কাটা কৃষি শ্রমিকের তালিকা ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ওসির নিকট জমা দিন। কেউ অসুস্থ হলে নিকটস্থ চিকিৎসককে জানান। এছাড়াও দুর্গম হাওড়ে ধান কাটার কৃষি শ্রমিকরা রাতে থাকার জন্য স্থানীয় শিক্ষা শ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতে পারবেন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে বোরো ধান কাটার শ্রমিকের অভাব থাকায় হাওর অঞ্চলের সাতটি জেলায় ধান কাটার যন্ত্র বরাদ্দ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
- বারকি শ্রমিকদের ধান কাটার কাজে নিয়োজিত করুন- জেলা প্রশাসকের
- জগন্নাথপুরে গার্মেন্টস কর্মী স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই হোম কোয়ারেন্টিনে


