সু.খবর ডেস্ক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘জঙ্গিরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ফিরে আসুক, তাদের প্রচলিত আইনে বিচার করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ডাক দিয়েছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমাজ ও দেশের মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি রবিবার দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ-এর সেমিনার কক্ষে আয়োজিত জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বাংলাদেশ পুলিশ এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসোইন, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, র্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, স্কলাসটিকা স্কুল অধ্যক্ষ বিগ্রে. জেনারেল (অব:) কাউসার আহমদ, মানারাত স্কুলের অধ্যক্ষ মেহেদি হাসান প্রামাণিক, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) আতিকুল ইসলাম সহ প্রমুখ।
এতে মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ডিআইজি মনিরুল ইসলাম । ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গুলশানের আগাম তথ্য থাকলেও হামলা কোথায় হবে আমাদের কাছে সেই তথ্য ছিল না। তবে পুলিশ সতর্ক থাকার কারণে ঘটনার সংবাদ পেয়েই ৩ মিনিটের মাথায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। হামলার প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে প্রথমে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হন।’
তিনি বলেন, ‘গুলশানের ঘটনায় কমান্ডো অপারেশনের আগে আমরা প্রথমে হামলাকারীদের অবস্থান জানার চেষ্টা করেছি। তারপর মাত্র ১৩ মিনিটের কমান্ডো সফল অপারেশন করেছে। গুলশান হামলার পরে সারাদেশের চেকপোস্ট স্থাপনসহ নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। তাই শোলাকিয়ায় বড় ধরণের কিছু হয়নি।’
গুলশানে আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় দুই পুলিশ সদস্য ও ২০ জন জিম্মি নিহত হয়েছে। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক পথে রয়েছে। গুলশানের হামলার মতো এমন কোনো ঘটনা মোকাবেলার বাস্তব অভিজ্ঞতা এর আগে আমাদের ছিল না। তাই এতো প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।’
লজ্জায়-ঘৃণায় নিহত জঙ্গিদের মরদেহগুলো তাদের পিতা-মাতারা এখনো নিতে আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ঘৃণা আজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ চায় না।’ যারা এখনো জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত আছেন তাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে চাই না। তোমরা যদি দোষ করে থাকো, ফিরে আসো। প্রচলিত আইন অনুযায়ী তোমাদের বিচার হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পুলিশ সারাদেশে সংগঠিত ৫০টির মতো টার্গেট কিলিং ঘটনার উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। এর সাথে কারা জড়িত ও মদদদাতা কে বা কারা সব পুলিশ জানতে পেরছে। অচিরেই এসব ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।’


