অক্ষয়নগরবাসীর গলার কাঁটা

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার চলতি নদীর বাম-তীরে অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবি জানাতে বুধবার সুরমা ইউনিয়নের অক্ষয়নগর গ্রামের কৃষকরা হাওররক্ষা বাঁধ বাস্তবায়ন কমিটির অভিযোগ নিস্পত্তিকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন’এর সঙ্গে দেখা করে এই বাঁধের কাজ বন্ধের দাবি জানান। গ্রামবাসী জানান, এই বাঁধে এই এলাকায় কোন ফসল রক্ষার কাজ করবে না। বরঞ্চ বৃষ্টি হলেই তাদের সকল রবি ফসল পানিতে ডুবে যাবে। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন তাৎক্ষণিক বাঁধের শেষ মাথায় কাজ না করার নির্দেশ দেন। কিন্তু অক্ষয়নগর গ্রামের কৃষকরা জানিয়েছেন, বিকালেও বাঁধের কাজ হয়েছে এবং বাঁধ নির্মাণ করে এলাকার মানুষকে বিপন্ন করা হচ্ছে।
অক্ষয়নগর গ্রামের কৃষক হারুন মিয়া বলেন, ‘বুধবার আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সাহেবের সঙ্গে দেখা করে বলেছি, এই বাঁধ নির্মাণের কারণে আমাদের কোন উপকারে আসবে না। বরঞ্চ বন্যা হবার আগেই ডুবে যাবে আমাদের সবজী খেত।
গ্রামের নজরুল ইসলাম জানালেন, তাঁর ৩০ শতক জমিই ছিল, এই জমি আমন জমি। অপ্রয়োজনীয় এই বাঁধের কাজ করতে ১৫ শতক জমি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. এমরান হোসেন জানালেন, সুরমার উত্তরপাড়ের অক্ষয়নগর এলাকার কৃষকরা আমার কাছে এসেছিলেন, আমাকে তারা বলেছেন, এই বাঁধ হলে পাহাড়ী ঢলের বা উজানের বৃষ্টির পানি নামার কোন পথ থাকবে না। বন্যা হবার আগেই ডুবে যাবে তাদের সবজী খেত, যার উপর তাদের জীবিকা। আমি বলেছি, এই বাঁধের ৫০ থেকে ১০০ ফুট অংশে কাজ করা যাবে না, পানি নামার পথ থাকতে হবে, এই অংশে কাজ বন্ধ রাখার কথা বলেছি আমি।’
প্রসঙ্গত. সুরমার উত্তরপাড়ের বাম তীরে ১১ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ব্যয়ে করা বাঁধের কাজ নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। এলাকার কেউ কেউ বলেছেন, এটি বাঁধের কাজে না আসলেও বাঁধের টাকায় কাইয়ারগাঁও-অক্ষয়নগর সড়ক হবে। কেউ বলেছেন, চলতি নদীর বাম তীর উপচে জনবসতির ক্ষয়ক্ষতি রোধ হবে। কেউ বলেছেন, এখানে বোরো জমি কম থাকলেও প্রকল্পের কিছু জমি রক্ষা করবে। অক্ষয়নগরবাসী শুরু থেকেই বলেছেন, বাঁধটি যেদিকে হচ্ছে, সেদিকে বাঁধের কোন প্রয়োজন নেই। সড়কের জন্য এই কাজ করা হয়ে থাকলেও, এটি পরিকল্পিত হয় নি। তাঁদের দাবি এটি এলাকাবাসীর গলার কাঁটা হবে।