অক্ষয়নগর স. প্রা. বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার নির্যাতনের শিকার হয়েছে সদর উপজেলার অক্ষয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী। গত রবিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পলিনা    চৌধুরী ৫ম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বেত্রাঘাত করেন। গুরুতর আহত একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। এছাড়াও বেত্রাঘাতে অনেক ছাত্রছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন জায়গা ফুলে গেছে।
এদিকে আজ সোমবার শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা কাছে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।  
জানা যায়, বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের ন্যয় রবিবার সকাল ১০টার পূর্বেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। শিক্ষিকা পলিনা বেগম শিক্ষার্থীদের কেন ৯টার সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি কারণ জানতে চেয়ে পেটাতে থাকেন। অনেক শিক্ষার্থীকে ক্লাসরুমের মেঝেতে ফেলেও মারধর করেন। এতে ৫ম শ্রেণির ছাত্র রাজু আহত হয়। পরে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করে একজন অভিভাবক বলেন, ‘পড়াশুনা না করলে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের শাসন করেন। কিন্তু কোন কারণ ছাড়া শিক্ষার্থীদের এরকম মারধর কেন করা হলো। পলিনা ম্যডামের বেতের আঘাতে আমার ছেলের ঠোঁট ফুলে গেছে। রাতে আার ছেলে ঘুমাতেও পারেনি’ তিনি বলেন, আজ স্কুল হয়নি। ছাত্র ছাত্রীরা স্কুলে গিয়ে ফিরে এসেছে।
অক্ষয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পলিনা চৌধুরী বলেন, ‘ বিদ্যালয়ের ছাত্র সাগর আর রাজু বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ে না আসায় রবিবার বাড়িতে খবর দিয়ে তাদের বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠাই। কিন্তু বিদ্যালয়ে এলেও তারা ক্লাসে অংশগ্রহণ না করে নানাভাবে অন্যদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। অধৈর্য্য হয়ে তাদের দুইটি বাড়ি দিয়েছিলাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সামান্য এ ঘটনাকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য হারুনুর রশিদ অন্যভাবে প্রচার করেছেন। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাদের নানা ভাবে মানসিক নির্যাতন করেন।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া সুলতানা বলেন, ‘আজকে বিকালে একজন অভিভাবক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন বিষয়টি জানাতে। আমি ওই শিক্ষককে ডেকে পাঠিয়েছি। বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’