অদম্য অমিতা

মোশফিকুর রহমান
শহরের জামতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন অমিতা রাণী পাল (৪০)। ১৭ বছর আগে যখন স্বামীকে হারান তখন বড় ছেলের বয়স ছিল ৩ বছর। তখন গর্ভে ছিল ৩ মাসের সন্তান। অথই সাগরে পড়া অমিতা নিজের চেষ্টায় ঘুরেও দাঁড়িয়েছেন। সবজি বিক্রি করে এখন সংসার চালাচ্ছেন অদম্য এই নারী। সম্প্রতি কথা হয় অমিতার সাথে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের শহিদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ও সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে শাকসবজি নিয়ে বসেন তিনি। তাঁর ছোট দোকানে বিভিন্ন জাতের শাক, লাউ, কাচামরিচ, আলু, বেগুন, শীম সহ নানান সবজি সাজানো। তাজা শাকসবজি কিনতে অনেক ক্রেতাই ভিড় করেছেন তাঁর দোকানে। ক্রেতা সামলানোর ফাঁকে ফাঁকে তিনি বললেন, স্বামী মারা গেছেন আজকে ১৭ বছর অয় (হয়)। তখন বড় ছেলের বয়স ৩ বছর। পেটে তিন মাসের সন্তান ছিল। অর্থ সম্পদ বলতে ভিটা ছাড়া কিছুই আছিল না (ছিল না)। বাঁচার তাগিদে দিনমজুরের কাজ করছি। বালু-পাথর টানা, মাটি কাটা সহ যে কাজ পাইছি করছি। স্বামী মারা যাওয়ার ছয়মাস পর দ্বিতীয় সন্তান অইছে (জন্ম হয়েছে)।
তিনি বলেন, ক্রমে সংসারের চাপ বেড়েছে। একজনের পরামর্শে গেরাম (গ্রাম) ছেড়ে সুনামগঞ্জ শহরে আসি। এরপর কিছু টাকা ঋণ নিয়ে ফলের ব্যবসা দেই, ভালোই চলছিল।
তিনি জানান, করোনার সময় ব্যবসায় লস অয়, ঋণপিন করে চলেছি। গত বন্যায়ও লোকসান হয়। এনজিও থেকে প্রায় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সাতমাস ধরে সবজি বিক্রি করছি। দিনে তিন/চার হাজার টাকার সবজি বিক্রি হয়। এখান থেকে যে লাভ অয়, তা থেকেই সাপ্তাহিক কিস্তি, খাওয়া, ঘরভাড়া দিই। অমিতা বলেন, দুই ছেলে বড় হয়েছে। তারা ব্যবসায় সহযোগিতা করে।
জানা যায়, বৃদ্ধ মা ও দুই ছেলে নিয়ে অমিতার সংসার। গ্রামের বাড়ি তাহিরপুর উপজেলার তেলিগাঁওয়ে। অমিতার বাবা মারা যান ছোটবেলায়। পড়াশোনা করেছেন প্রাইমারি পর্যন্ত। এরপর বিয়ে হয় গ্রামের নির্ঝন দাশের সঙ্গে।
অমিতা রাণী পাল বলেন, সবজি বিক্রি করে কোনোরকমে চলছে। সরকারি ভাবে ব্যাংক থেকে ঋণের ব্যবস্থা অইলে কিছুটা উপকার অইত। এনজিওর টাকার সাপ্তাহিক কিস্তি দিয়ে, ঘরভাড়া আর খানিখরচে চলতে কষ্ট অয়। এসময় তিনি বলেন, সরকার মানুষকে অনেক সহযোগিতা করছে, কিন্তু আমি কিছুই পাই না।
জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের ঘর নেই, ঘর দিচ্ছেন। যাদের জমি নেই, তাদেরকে জমি সহ ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। এছাড়াও যারা বিধবা ভাতার উপযোগী তাদেরকে ভাতা দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য যারা চেষ্টা করছেন তাদেরকেও সরকার সহায়তা করছে, ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে। এরপরও যারা এসব থেকে বঞ্চিত রয়েছেন- তারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে সহযোগিতা করব।