অদম্য মেধাবী হাজেরা বেগম, ইচ্ছে শক্তির কাছে হার মেনেছে দারিদ্রতা

জগন্নাথপুর অফিস
বাড়ি থেকে প্রতিদিন দুই কিলোমিটার দূরে পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে। অভাব অনটনের কারণে অনেক দিন না খেয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় পাঠদান করতে হতো। এর পরও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষা সংগ্রামী মেয়েটির নাম হাজেরা বেগম।
জগন্নাথপুর উপজেলা নলুয়ার হাওর ব্যষ্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের হাওর পাড়ের বিদ্যাপীট পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে হাজেরা।
এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের তছর উদ্দিনের মেয়ে হাজেরা বেগম ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি খুব বেশি আগ্রহী। ২০১৫ সালে হঠাৎ করে কৃষক বাবা অসুস্থ হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। গৃহিণী মা রবজান বিবি তিন ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচ ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অন্যর বাড়িতে কাজ করতে হয়।
হাজেরা বেগম এর মা রবজান বিবি জানান, আমার স্বামী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় আমি সংসারের ভরনপোষণ ও ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে দিশেহারা হয়ে পড়ি। মেয়েটি অনেক দিন না খেয়ে দুই কিলোমিটার দূরে পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠদান করেছে। শত কষ্টের মধ্যেও সে পড়াশোনায় থামেনি। জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করলেও এখন উচ্চ শিক্ষার খরচ জোগাতে দুশ্চিন্তায় আছি।
হাজেরা বেগম জানান, জেএসসি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পাওয়ায় পড়াশোনার খরচ জোগাতে কিছুটা সহায়তা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সার্বিক সহযোগিতা করায়
কাক্সিক্ষত ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। আগামী দিনগুলো কিভাবে পড়াশোনা চালাবে এ চিন্তায় আছি।
পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোহিত বলেন, হাজেরা বেগম পড়াশোনার প্রতি খুব আন্তরিক ছিল। অদম্য ইচ্ছে শক্তির কারণে খেয়ে না খেয়ে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন সে বিদ্যালয়ে এসে পাঠদানে মনোযোগী ছিল। আমরা তাকে সহযোগিতা করেছি। তার আরেক বোন ও ভাই আমাদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। আমরা তাদেরকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, অদম্য ইচ্ছে হাজেরা বেগম কে দারিদ্রতার বাধার পাহাড় দূর করে কাক্সিক্ষত ফলাফল এনে দিয়েছে এতে আমরা খুশি। সমাজের শিক্ষানুরাগীরা তার উচ্চ শিক্ষার সহায়তায় এগিয়ে এলে আমার বিশ্বাস সে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে।