অধ্যক্ষের বেতনভাতা বন্ধের দাবি সাবেক ছাত্রদের

স্টাফ রিপোর্টার
ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার দায়েরের পর এবার কলেজের কয়েকজন সাবেক ছাত্র তাঁর (অধ্যক্ষের) বেতন-ভাতা বন্ধ ও অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা সচিবের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তারা এই দাবি জানায়।
স্মারক লিপিতে স্বাক্ষর করেন কলেজের গভর্নিংবডির সাবেক সদস্য ও সাবেক ছাত্র অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল, গভর্নিংবডির সাবেক সদস্য ও সাবেক ছাত্র নিজাম উদ্দিনসহ এলাকার আট জন। স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, স্মারকলিপি শিক্ষা সচিব মহোদয়ের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও জাল কাগজপত্র দখিল করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইনজীবী সনদ গ্রহণ করে প্রতারণা করে সিলেট আইনজীবী সমিতিতে তালিকাভুক্ত হন। তিনি অধ্যক্ষ ও আইনজীবী হিসেবে কোনভাবেই দু’টি পদে একসাথে থাকতে পারেন না। কলেজের অধ্যক্ষ হতে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হলেও নিয়োগের সময় তার সেটি ছিল না বলে দাবি করেন স্মারকলিপি প্রদানকারীরা। স্মারকলিপিতে অধ্যক্ষের বেতন-ভাতা বন্ধ ও অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক বললেন,‘এসব অভিযোগ ভুয়া ও মিথ্যা। বাংলাদেশের অনেকেই অন্য পেশায় আছেন আবার আইনজীবীও। আমি আদালতে প্র্যাকট্রিসে যাই না। অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য আমার অভিজ্ঞতা আছে, যারা আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন তারা ভাল জানেন। তারা কাগজপত্র দেখেই আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন।’
এর আগে অধ্যক্ষ সুজাত আলীসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন কলেজের বিএসএস (সম্মান) কোর্সের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুহিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইমদাদুল হক ইমন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন।