অনিয়মের অভিযোগও আছে

স্টাফ রিপোর্টার
ঘর প্রদানে স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও অনিয়মের অভিযোগও ওঠেছে। শাল্লার নারকিলা গ্রামে প্রথমে ১৫ টি ঘরের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আরও ১০ টি হচ্ছে।
এই গ্রামের আলমগীর কবির জানালেন, ঘর পেতে পরিবার প্রতি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ করতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ টাকা খরচ করতে না পারায় ঘরই তৈরি করতে পারছে না। তিনি জানান, তারা প্রত্যেকে ঘরের মালামাল পরিবহন ও মেস্ত্রীর খরচ বাবদ এই টাকা খরচ করেছেন।
গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, মালামাল আনা, রড, স্কু কেনা এবং কাঠমেস্ত্রীকে টাকা দেওয়াসহ ১৫ হাজারের মতো টাকা দিতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এলাইছ মিয়া তাদেরকে এই টাকা খরচ করতে হবে জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।
গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর জজ মিয়া পরিবহন খরচের টাকা দিতে পারছেন না বলে তার ঘরের মালামাল এখনো নদীর পাড়েই রয়ে গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য এলাইছ মিয়া আশ্রয়হীনদের খরচের টাকা দেওয়া প্রসঙ্গে বললেন, এই জবাব উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিতে পারবেন।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মুক্তাদীর আহমদ বললেন, শাল্লার প্রত্যন্ত এলাকায় ঘরের মালামাল পৌঁছাতে খরচ বেশি হচ্ছে। এজন্য বলা হয়েছে কষ্ট করে পারলে তারা নিজেরাই মালামাল নেবার জন্য। অন্য খরচের বিষয়ে তার জানা নেই বলে জানান তিনি।
ধর্মপাশায়ও অনেক এলাকায় আশ্রয়হীনদের দিতে হচ্ছে পরিবহন খরচ। এই উপজেলায় আশ্রয়হীনরাই নিজেদের ঘরের কাজে ব্যবহৃত বালু সরবরাহ করেছে। যারা উচ্চকণ্ঠ তারা বালুর টাকা পেয়েছে। নিরীহরা এখনো পায় নি।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনতাসির হাসান বললেন, গৃহহীনরা নিজেরা বালু সরবরাহ করলেও তাদের সকলেরই বালুর টাকা দেওয়া হয়েছে। উপজেলার ৩০০ ঘরের মালামাল পৌঁছে গেছে। কোথাও কোন গৃহহীনকে পরিবহন খরচের টাকা দিতে হয় নি।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে এই প্রসঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। এসময় তিনি বলেছেন, কেউ চাইলেই প্রধানমন্ত্রীর মুজিবর্ষের বিশেষ উপহারে অনিয়ম করতে পারবেন না। কোথাও কেউ গৃহ নির্মাণের জন্য পরিবহন খরচের টাকা নিতে পারবেন না। নিলে অপরাধ হবে। তথ্য গোপন করে সামর্থবান কেউ ঘর পেলে তার ঘর ফেরৎ নেওয়া হবে। আগামী ২৩ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘরের চাবি ও দলিল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হস্তান্তর করবেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক।