অনুর্দ্ধ-১৮ ফুটবল প্রতিযোগিতার সফলতা কামনা করি

একটা জাতীয় পর্যায়ের ফুটবল প্রতিযোগিতার ভেন্যু হয়েছে সুনামগঞ্জ অথচ এ নিয়ে প্রচার-প্রচারণার ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। অনুর্দ্ধ ১৮ জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের একটি গ্রুপ পর্যায়ের খেলা শুরু হয়েছে গতকাল সুনামগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে। ৮টি জেলার বয়সভিত্তিক দল এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। এরকম একটি জাতীয় পর্যায়ের খেলার জন্য যেরকম প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন ছিল তার ছিটেফোটাও দেখা মিলেনি। ফলে প্রতিযোগিতাটি অনেকটা দর্শকদের অগোচরেই শুরু হল। ফুটবল মন্দার এই সময়ে জেলা সদরে একটি জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজিত হওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দ ও আগ্রহের বিষয়। আমরা প্রতিযোগিতার সর্বতো সফলতা কামনা করি। প্রতিযোগিতার আয়োজনের কোন পর্বেই যাতে কোন ধরনের কমতি না থাকে এবং এই আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে যাতে আমরা আরও বড় প্রতিযোগিতার আয়োজক হওয়ার দাবি জানাতে পারি সেটিই আমাদের একান্ত কামনা।
সারা পৃথিবীতে এখনও ফুটবল দর্শক বিচারে সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা। ফুটবল সর্বসাধারণের খেলা হিসেবেও বিবেচিত হয়। এই খেলাটি খেলতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন পড়ে না। গ্রামের একদল বালক খালি পায়ে মাঠে নেমে পড়ে দুই তিন শ’ টাকা দামের একটি বল নিয়ে। সহজ নিয়ম-কানুন, স্বল্প সময়ে রেজাল্ট হয়ে যাওয়া, প্রতি মুহূর্তে উত্তেজনা এমনসব কারণে সব যুগেই ফুটবল মানুষের ক্রীড়া বিনোদনের অন্যতম উপকরণ হয়ে আছে। আমাদের দেশে শহুরে তরুণদের মাঝে এখন চলছে ক্রিকেট ক্রেজ। ফুটবল পড়ে গেছে পিছনে। ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক সাফল্য পাওয়ায় বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানো দল। কিন্তু একটি খেলার চরম উন্নতির কারণে অন্য খেলাগুলো নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে এটি কখনও কোন দেশের ক্রিড়াঙ্গনের বৈশিষ্ট হতে পারে না। ক্রিকেটে এখন যে সব দেশ খুব ভাল করছে সেইসব দেশের ফুটবল বা অন্য খেলাগুলোও সমান্তরাল গতিতে পরিচর্যা পেয়ে থাকে। সমস্যা হচ্ছে আমরা ক্রিকেটকে অতিমাত্রায় গুরুত্ব দিতে গিয়ে বাকি সব খেলাধুলার প্রতি অবহেলা দেখিয়ে যাচ্ছি। এটি কাক্সিক্ষত নয়।
আজ সুনামগঞ্জে বয়সভিত্তিক একটি জাতীয় প্রতিযোগিতার যে পর্বটি সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার মধ্য দিয়ে এই জেলার ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তরুণ সম্প্রদায়ের মধ্যে ফুটবল ক্রেজ তৈরিতে এরকম প্রতিযোগিতা টনিকের মতো কাজ করে। জেলার ফুটবল কর্মকর্তাদের নিকট আমাদের আবেদন থাকবে ফুটবলে জেলার যে অতীত সুনাম ছিল সেটিকে আরও অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার। নিয়মিত বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই শহরে ফুটবলের নামে একসময় মানুষের যে ঢল নামত সেই ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার আহ্বান রইল।
প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, চাঁদপুর ও স্বাগতিক সুনামগঞ্জসহ যে ৮টি দল অংশ নিচ্ছে তার প্রতিটি খেলোয়ার ও সংশ্লিষ্ট জেলার ফুটবল সংগঠক যারা সুনামগঞ্জ এসেছেন বা আসবেন তাঁদেরকে গানের দেশ হাওরের দেশ এই ভাটির সুনামগঞ্জে স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি এই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সারা দেশে আমরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিযোগিতার আয়োজনেও যে আমরা সক্ষম সেটি তুলে ধরছি। এই প্রতিযোগিতা জেলার সকল বালক ও তরুণের মনে ফুটবল আগ্রহ তৈরি করুক ব্যাপকভাবে, এর মধ্য দিয়ে তাঁরা নিজেদের ভাল ফুটবলার হিসেবে তৈরি করুক, অনুর্দ্ধ-১৬ জাতীয় দলের কৃতী গোলরক্ষক আমাদের ফয়সল যে স্বপ্নটি দেখেছিল সেই স্বপ্ন আরও অসংখ্য তরুণের চোখে ফুটে উঠুক এই প্রত্যাশায় আমরা একটি সফল প্রতিযোগিতার আয়োজক হওয়ায় সুনামগঞ্জের ফুটবল সংগঠক ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানাই।