মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
প্রযুক্তির যুগে মোবাইল এখন প্রতিটি মানুষের নিত্যদিনের সাথী। এখন প্রায় সবার হাতে হাতে রয়েছে মোবাইল। তবে ব্যবহার বেশী হয় বলে সমস্যাও বেশী। ইলেকট্রনিক এই ডিভাইসে প্রায়শই নানা যান্ত্রিক ত্রুটিও দেখা যায়। এতে চিন্তায় পড়েন মোবাইল ব্যবহারকারীগণ। আর তা সারাতে ছুটতে হয় সার্ভিসিং সেন্টারে।
বর্তমানে প্রযুক্তির সাথে সাথে গ্রামীণ বাজারেও আছে অসংখ্য তরুণের মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার। বেকার যুবকেরা প্রশিক্ষণ নিয়ে গড়ে তুলেছেন মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার। প্রতিটি সেন্টারে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫টি মোবাইল মেরামত করতে আসেন ব্যবহারকারীরা। এতে প্রতিমাসে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় শিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবদের। ধীরে ধীরে প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার একটি পৃথক শিল্প হিসাবে গড়ে উঠেছে।
জানা যায়, বিশাল এই সেক্টরের যাত্রা শুরু হয় বেকারদের হাত ধরেই। এদের বেশিরভাগ ছেলেদের কোন প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা না থাকলেও কাজ করতে করতে অনেকেই নিজেদের দক্ষ মোবাইল সার্ভিসিং টেকনিশিয়ান হিসাবে গড়ে তুলেছেন। চাহিদার কারণে এই শিল্পের বিকাশ ঘটছে দ্রুত। তবে মোবাইল বিক্রির মার্কেট ও তার আশপাশে মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার বেশী গড়ে উঠেছে। এই শিল্পের প্রসার মূলত বিশ^াসযোগ্যতাই মূলধন হিসাবে কাজ করে। একটি মোবাইল নিঁখুতভাবে সার্ভিসিং বা মোবাইলের সমস্যা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারার মাধ্যমে সার্ভিসিং সেন্টারের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে।
উপজেলা জুড়ে মোবাইল সেন্টার থাকলেও মূলত সাচনা বাজার, জামালগঞ্জ বাজার, মন্নানঘাট বাজার, চানপুর হারুন মার্কেট, নোয়াগাঁও বাজার, সেলিমগঞ্জ বাজার, লক্ষীপুর বাজার, বেহেলী বাজার, গজারিয়া বাজার, রামনগর বাজার সহ ছাটখাটো হাট বাজারে গড়ে উঠেছে শতাধিক মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার। যে কোন ব্র্যান্ডের মোবাইল সেট এসব সার্ভিসিং সেন্টারে মেরামত করা হয়ে থাকে।
উপজেলার জামালগঞ্জ বাজারের সার্ভিসিং সেন্টারের টেকনিশিয়ান মো. কামরুল ইসলাম, মনসুর আহমদ, মকবুল হোসেন, সাচনা বাজারের আলী আমজদ, ফারুক মিয়া, মো. আলা উদ্দিন, মো. মঈন উদ্দিন জানালেন, সার্ভিসিং সেন্টার খুলতে বেশী পুঁজির দরকার হয় না। একটি ঘর ও কিছু যন্ত্রপাতি সহ বসে গেলেই হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার মর্যাদার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। অনেকেই এই পেশায় সফলতা পেয়েছে। স্বাধীন ব্যবসা হিসাবে স্বল্প পুঁজিতে সার্ভিসিং সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে অনেকেই ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন।
জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ বললেন, অনেক শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত বেকার ছেলেরা সাবলম্বী হওয়ার জন্য এই পেশায় কাজ করছে। নিজের বাবা-মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে অনেকই বিদেশ পাড়ি দেন, কিন্তু দেশেও অল্প পুঁজিতে বিদেশের থেকে বেশী আয় করা সম্ভব। যা অনেকে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের মাধ্যমে দেখিয়েছেন।
- দিল, দিলারা, দিলারাম…
- জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ উপ নির্বাচন/ চেয়ারম্যান পদে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল


