বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা জমে ওঠেছে। নির্বাচনী আলোচনায় মশগুল উপজেলার হাট-বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, গ্রাম্য দোকানপাট ও পাড়া মহল্লা। আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘিরেই আলোচনা বেশি।
আগামী ৫ জানুয়ারি উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৪ টিতে ভোট । গত ৬ ডিসেম্বর আ.লীগের মনোনয়ন বোর্ড জামালগঞ্জের ইউপি নির্বাচনে ১ নম্বর বেহেলী ইউনিয়নে সুব্রত সামন্ত সরকার, ৩ নম্বর ফেনারবাঁক ইউনিয়নে কাজল চন্দ্র তালুকদার, ৪ নম্বর সাচনা বাজার ইউনিয়নে সায়েম পাঠান ও ৫ নম্বর ভীমখালী ইউনিয়নে আক্তারুজ্জামান শাহকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু দলীয় প্রার্থীর পক্ষে দুটি ইউনিয়নে ঐক্যবদ্ধ নয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা, এ কারণে সংকটে নৌকা।
উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নে নৌকাবঞ্চিত হেভিওয়েট প্রার্থী জেলা আ.লীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম শামীমের অনুজ ও উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এহছানুল করিম পারভেজকে টেক্কা দিয়ে সায়েম পাঠান নৌকা বাগিয়ে আনায় শামীম বলয়ের নেতা কর্মীরা বিরক্ত। এই ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজিত প্রার্থী সায়েম পাঠানকে এবারও মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ না থাকায় এই ইউনিয়নে বিএনপি ঘরানার শক্তিশালী প্রার্থী মো. মাসুক মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা নূরুল হক আফিন্দীর নিকটাত্মীয় ইকবাল হাছান এবং ইনসিওরেন্স কর্মকর্তা মিছবাহ উদ্দিন ভোটযুদ্ধে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
এদিকে, ফেনারবাঁক ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদারের ছেলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজল তালুকদার সাত বারের চেয়ারম্যান পিতার শুভানুধ্যায়ী ও কর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়ালেও আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা এখনো নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় হন নি। এই ইউনিয়নের সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মনোনয়ন প্রত্যাশী জিতেন্দ্র তালুকদার পিন্টুর সমর্থকরা সক্রিয় হলে এখানে নৌকার পালে হাওয়া লাগবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এই ইউনিয়নে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলেও মনোনয়ন বঞ্চিতদের সমর্থকরা নিস্ক্রিয়। এই ক্ষোভ প্রশমিত না হলে বিএনপিঘেঁষা প্রার্থী জুলফিকার চৌধুরী রানা কিংবা সাবেক চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মতিউর রহমান সুবিধা নেবার চেষ্টা করবেন।
বেহেলী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুব্রত সামন্ত সরকারের পক্ষে দলের বেশির ভাগ নেতা কর্মী সক্রিয়। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সুব্রত ও বর্তমান চেয়ারম্যান অসীম তালুকদারের লড়াই জমবে বলে মনে করছেন ভোটারারা। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার হোসেন এবং অজিত রায়ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন বলে জানিয়েছেন একাধিক ভোটার।
ভীমখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আক্তারুজ্জামান শাহ্ ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. দুলাল মিয়ার লড়াই জমবে। এখানে বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আক্তারুজ্জামান তালুকদারও মূল লড়াইয়ে থাকবেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। ইউনিয়নের চার প্রার্থীর তিনজনেই সমান জনপ্রিয় হওয়ায় ভোটের হিসাব মেলানো কঠিন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জামালগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ফেনারবাঁক ইউনিয়নের বাসিন্দা অঞ্জন পুরকায়স্থ বলেন, ইউনিয়নের ভোটারদের ক্ষোভ আছে ক্ষমতাসীনদের উপর, মিনি পাগনা পারে কয়েকটি গ্রাম আছে যাদের কেউ মরলে এখনও আরেক উপজেলায় নিয়ে সৎকার করতে হয়। আওয়ামী লীগের অনেকেই প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতাও করছেন বলে জানান তিনি।
ফেনারবাঁক ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজল চন্দ্র তালুকদার অবশ্য বলেছেন, দলের সকলেই তার পক্ষে সক্রিয়। তবে ইউনিয়নে স্বার্থান্বেষী একটি মহল আছে, যারা নামধারী আওয়ামী লীগ, তাদের অবস্থান নৌকার বিরুদ্ধে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একজন তার সঙ্গে আছেন জানিয়ে বলেন, অপরজনের অবস্থান ক্লিয়ার নয়।
জামালগঞ্জ উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা নৌকার প্রচারণায় আছি, আশা করি চার ইউনিয়ন থেকেই নৌকা বের হয়ে আসবে, যদিও সাচনা বাজার ইউনিয়ন নিয়ে একটু সন্দেহ আছে, তবে সবাই মাঠে আছি এবং চেষ্টা করছি ভালো কিছু করার।


