বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ শহরে চুরি ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ হয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, শহরের হাছননগর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা অব. সেনা সদস্য বাবলুর রহমানের বাসায় সম্প্রতি দিনের বেলায় দরজা ভেঙে চুরি হয়। এই ঘটনায় যুক্ত কোন চোর এখনো আটক হয় নি। হাছননগরে (পূরবী ৪৩/২) স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়ায় থাকেন বাবলুর রহমান। গত ৬ আগস্ট বিকাল ৫টায় তার স্ত্রী বাসার দরজায় তালা দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যান। এরমধ্যেই দরজার তালা কৌশলে ভেঙে ঘরে ঢুকে আলমীরা ভেঙে নগদ ৫ লাখ টাকা, ৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১১ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা। পরদিন বাবলুর রহমান থানায় জিডি করেন। চুরি যাওয়া এই মালামাল উদ্ধার বা চুরির সঙ্গে যুক্ত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ।
সম্প্রতি ঘরের টিনের চাল খুলে শহরের স্টেশন রোডের বৃষ্টি টেলিকম, মুক্তারপাড়ার মাই টেলিকম চুরি হয়। এই দোকানগুলো থেকে কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা। এছাড়া মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায়। এসব চুরি ঠেকানোও যাচ্ছে না। এই অবস্থায় সুনামগঞ্জ পুলিশ এই ধরনের চুরি, ছিনতাই, বখাটেপনা ঠেকাতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও চত্ত্বরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে।
ক্যামেরা স্থাপনের কাজে নিয়োজিত আরএনপি টেকনোলজি’র পরিচালক রাজিব দাস জানালেন, ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার, আব্দুজ জহুর সেতু, ওয়েজখালী পয়েন্ট, জলিলপুর পয়েন্ট এবং পুলিশ লাইনের সামনের সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শহরের সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, মধ্যবাজার পয়েন্ট এবং জগন্নাথবাড়ি সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন হবে। এসব পয়েন্টে স্থাপন করা ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বললেন, করোনাকালে হঠাৎ করে ছোট ছোট চুরি বেড়ে গেছে। চুরি করে চোরেরা রংপুর, কুড়িগ্রাম চলে গেছে এমন তথ্যও পুলিশের কাছে রয়েছে। এসব চুরি ঠেকাতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এরমধ্যে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেমন আলফাত স্কয়ার, পুরাতন বাসস্টেশন, আব্দুজ জহুর সেতু, ওয়েজখালী পয়েন্ট, বক পয়েন্ট, বিহারী পয়েন্ট, বাজারের চৌরাস্তা, মহিলা কলেজ পয়েন্ট, বাঁধনপাড়া পয়েন্টসহ কিছু এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়েছে। নিজ নিজ স্থাপনা বা প্রতিষ্ঠানের সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে বেসরকারি সহযোগিতা, যেমন তারা নিজেরা ক্যামেরা স্থাপন করে আমাদের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করে দিলে আমরা যত বেশি সম্ভব এলাকা মনিটরিংয়ে আনার চেষ্টা করবো। তিনি জানান, সিসি ক্যামেরাগুলো মনিটরিং করা হবে সুনামগঞ্জ সদর থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষ এবং সদর থানার ওসি’র কক্ষ থেকে। পুলিশ সুপারের মতে, কিছু কিছু এলাকায় বখাটেপনা, উত্তোক্তকরণ ঠেকানো এবং কিশোর গ্যাং চিহিৃত করতেও এই সিসি ক্যামেরা কাজে লাগবে।


