স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণের কারণে সামান্য পানিতেই তলিয়ে যায় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়ক। ফলে চলাচলে দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে সিএনজি, লেগুনা কিংবা প্রাইভেটকার নিয়ে যারা এ পথে আসেন সড়ক থেকে পানি না নামা পর্যন্ত গাড়ি চালকদের গাড়ী নিয়ে রাস্তা পূর্ব ও পশ্চিম পাশে অবস্থান করতে হয় দু’চার দিন । এ অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে গত ৩ দিন ধরে।
ভাটির জনপদ তাহিরপুরে টাঙ্গুয়া হাওর, বারেক টিলা ও যাদুকাটা নদীকে কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণ পিপাসুরা আসেন । সড়ক যোগাযোগ থাকায় অনেকেই ব্যক্তিগত গাড়ী নিয়ে আসেন, অনেকে ভাড়া গাড়ীতে আসেন কিন্তু আসা কিংবা যাওয়ার পথে বাদ সাধে তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কের শক্তিয়ারখলার নামক সড়কের ১শ মিটার নীচু সড়ক। বর্ষাকালে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটলে দু’চার ঘন্টা ভাড়ী বৃষ্টিপাত হলেই মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সড়কটি ৩ থেকে ৪ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। সেই সাথে এই স্থানটি দিয়ে দ্রুত গতিতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় গাড়ি পারাপার করা দূরুহ হয়ে পড়ে। গত সোমবার সন্ধ্যায় দু’জন মোটর সাইকেল চালক বিপদে পড়ে সড়কটি পারি দিতে গিয়ে মোটর সাইকেল সহ পানিতে তলিয়ে যান। মোটর সাইকেল চালকরা কোন রকম স্্েরাতের কবল থেকে উদ্ধার হলেও তাৎক্ষণিক মূহূর্তে মোটর সাইকেল উদ্ধার করা সম্ভব হয় নি। মোটর সাইকেল উদ্ধারের জন্য বসে থাকতে হয় পানি কমা পর্যন্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য এলজিইডি সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কটি নির্মাণের সময় শক্তিয়ার খলার পূর্ব পাশে ১শ মিটার সড়ক অপেক্ষাকৃত নীচু করে ণির্মাণ করে। ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ সময় এ সড়ক পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে থাকে। আর এ পথে আসা যাত্রী সাধারণ পড়েন চরম ভোগান্তিতে।
তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালক টিটন মিয়া বলেন, তাহিরপুর সুনামগঞ্জ সড়কে আমি প্রতিদিন ভাড়ায় মোটর সাইকেল চালাই। অনেক সময় অনন্যোপায় হয়ে যাত্রীদের নিয়ে প্রবল স্্েরাতের মধ্য দিয়ে এ স্থানটি পাড়ি দেই। অনেকে পাড়ি দিতে গিয়ে মোরটর সাইকেল সহ পানিতে ডুবে যায়।
কয়লা আমদানীকারক মোস্তাক আহমেদ রবিবার তার নিজের গাড়ি করে তাহিরপুর এসেছিলেন কিন্তু সোমবার সুনামগঞ্জ ফেরার পথে সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় তিনি গাড়িটি রেখে যান।
কান্ট্রিট্যুরিজম বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক রাসেল ভূইয়া জানান, টাঙ্গুয়া ও বারেক টিলাকে কেন্দ্র করে এ পথে অনেক পর্যটক আসা যাওয়া করেন কিন্তু সড়কে এ রকম ভোগান্তিতে যারা পড়েন তারা একবার আসেল দ্বিতীয়বার এ পথে আসেতে চান না। এ সড়কটির দ্রুত উন্নয়নের ব্যবস্থা না করলে টাঙ্গুয়া ও বারেকটিলা দেখতে আসা পর্যটকরা হয়তো মূখ ফিরিয়ে নেবেন।
এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমেদ বলেন,‘শক্তিয়ারখলার নীচু সড়কের অবস্থা জানা আছে। ব্রিজ বা কালভার্ট নির্মাণ করে সড়কটি উচু করার পরিকল্পনা আছে আমাদের।’


