অপেক্ষার যেন শেষ নেই তাঁদের

পুলক রাজ
মহামারি কোভিড-১৯ এর (করোনাভাইরাস) কারণে লকডাউনে নির্মাণ কাজ সহ বিভিন্ন কাজ সেভাবে এখনো গতি পায়নি। তাই শ্রমিকেরা কাজ পাচ্ছেন না। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায় কাজের আশায় পৌর শহরের দোজ্জা শপিং স্টোরের সামনে দা, কোদাল, টুকরি, হাতুড়ি-বাটালি নিয়ে রোজ অপেক্ষায় কিছু মানুষ। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন মোড়ে এসব দিন মজুরের দেখা পাওয়া যায়। তাঁরা কাজের সন্ধানে এসে প্রায় প্রতিদিনই ফিরে যাচ্ছেন।
বেতগঞ্জ গ্রামের মুর্শেদা বেগম বলেন, এতদূর থেকে ডাবল গাড়ী ভাড়া দিয়ে কাজের খুঁজে শহরে আসছি। কিন্তু বেলা ১১টা বেজে গেছে এখন পর্যন্ত কোন কাজ পাই নাই। বাড়ীতে যাওয়ার টাকা পর্যন্ত নেই।
নতুনপাড়া কার্তিক তালুকদার বলেন, কাজ না পেলে পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয়। আজকে এখন পর্যন্ত কোন কাজের সন্ধান পেলাম না। বাড়ীতে গিয়ে বউ বাচ্চাকে কি জবাব দিব বুঝতে পারছি না।
পাঠানবাড়ি এলাকার দিলবানু বলেন, লকডাউনের আগে কম বেশী কাজ পেতাম। এখন কাজ একদম কম মিলছে। প্রায় সময় ছেলে মেয়েদের নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়। গতবছর মঝে মধ্যে ত্রাণ পেয়েছি, এবছর এখনও পাই নাই। একই কথা বললেন জানিগাঁওয়ের শাহিনুর রহমান।
হাছন নগর মনসাদ আলী বলেন, আমি মাটি কাটা, মাটির ঘর, ঢেউটিনের ঘর তৈরির কাজ করি। কাজ পেলে ভাত খেতে পারি নইলে না খেয়ে থাকতে হয়।
খাইমতরের জয়নাল আবেদিন, বুড়িস্থল গ্রামের ছমর আলী ও নতুন হাছন নগরের মালা বেগম বলেন, সকাল ৭ থেকে ৮টায় এখানে এসে বসি কাজের আশায়। কোন দিন কাজ পাই কোন দিন পাইনা। সংসার চালাতে হিমশিম আমাদের খেতে হচ্ছে।