‘অপ্রাকৃতিক প্রকৃতি’- নাটকে সন্তানহীন নারীর কাহিনী

স্টাফ রিপোর্টার
মাতৃত্ব নারীর জীবনে এনে দেয় পূর্ণতা। যে নারী মাতৃত্বের স্বাদ পায়নি, সেই কেবল বোঝে এর অপূর্ণতা। তেমনই এক অস্পৃশ্য, অনাদৃত ও অবহেলিত সন্তানহীন নারীর কাহিনী নিয়ে মঞ্চস্থ হচ্ছে নাটক ‘অপ্রাকৃতিক প্রকৃতি’। যেখানে নারীকে মনুষ্যত্বের সম্মানে উন্মুক্ত করা হয়েছে শিল্পের গহীনালোয়। নাটকে প্রকাশ পেয়েছে সন্তানহীন নারীদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত। নাটকের মূল চরিত্র স্মৃতির জীবন সংসারের কাহিনী এতে তুলে ধরা হয়েছে। সন্তান লাভের আশায় স্মৃতি ভন্ড সাধুর আশ্রমে যেতেও কুন্ঠাবোধ করেনি। আবার মানব চিরন্তন প্রেমের আহ্বানে অধরাকে পাবার আশায় সংসার ত্যাগী হয়, কিন্তু সংসারের মায়ামোহে আবার হয় ঘরমুখো। শত আয়োজন, শত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় প্রকৃতি বিমুখ হলে। বেকসুর প্রকৃতি মাঝে মাঝে হয়ে ওঠে অপ্রাকৃতিক বাংলার রূপ। অনেকটা দেশজ ও রবীন্দ্র নাট্যধারার আদলে মঞ্চের পাদপ্রদীপের আলোয়ে নাটকটি উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে
তিন দিনব্যাপী নাট্য উৎসবের শেষ দিন শায়েস্তাগঞ্জের দেশ নাট্য গোষ্ঠী মঞ্চস্থ করে নাটক ‘অপ্রাকৃতিক প্রকৃতি’। মুভমেন্ট থিয়েটারের জনক ও নাট্যভাস্কর ড. মুকিদ চৌধুরী রচিত ‘অপ্রাকৃতিক প্রকৃতি’ নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন ফখরুল হামিদ।
উল্লেখ্য, ‘জঙ্গি-অবক্ষয়-দুর্নীতি, মানবে না এ সংস্কৃতি’ প্রতিপাদ্যাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান ৩০২টির অধিক নাট্য সংগঠনকে নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে দেশের ৬৪ জেলায় জাতীয় নাট্য উৎসব উদযাপনের আয়োজন করেছে। এরই অংশ হিসাবে সুনামগঞ্জে তিনদিনব্যাপী নাট্য উৎসর অনুষ্ঠিত হয়েচে। নাট্য উৎসবে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন- হারোন সাঁই, জনি রানি দাস, শামিম আহমেদ, আল আমিন, শারমিন আক্তার, শাহীন আহমেদ, জোসেফ হাবিব, সিরাজুল ইসলাম, মোখলিছুর রহমান ও মাখন মিয়া। নাটকে কীর্তনীয়ায় ফারুক দেওয়ান এবং নৃত্যে রয়েছেন মিঠুন, রাজিব, নয়ন ও সন্দীপ।