অবশেষে রিঙ্গিতের মান বাড়লো

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া
অবশেষে মালয়েশিয়া রিঙ্গিতের মান বাড়লো। গত বছর দেশটির রাজনৈতিক অস্তিরতায় অর্থনীতিতে ভাটা পড়েছিল। রিঙ্গিতের মান কমে যাওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিটেন্স প্রেরণে কিছুটা শিথিল অবস্থা বিরাজ করেছিল। রিঙ্গিতের মান ধসের  কারণে ডলারের বিপরিতে রিঙ্গিতের মূল্য ছির হতাশা জনক। গেলো মাসেও প্রতি ডলারের বিনিময়ে এর মূল্য ছিল প্রায় ৪.৩৬ রিঙ্গিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশি টাকায় ১ রিঙ্গিতের বিনিময় মূল্যও কমে দাঁড়িয়েছিল ১৭.২০ টাকা। অন্যদিকে গত ছয় বছরে টাকার বিনিময়ে রিঙ্গিতের মানও রেকর্ড পরিমাণ কমে গিয়েছিল।
বর্তমান রিঙ্গিতের মান বেড়ে আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে শুরু করেছে। গতকাল রবিবার ডলারের মান দাঁড়িয়েছে ৩.৯১ রিঙ্গিত। আর বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি রিঙ্গিতের বিনিময়ে এখন ২০.১০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে।  
১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে মাসের পর গত বছর প্রথম ডলারের মান এতোখানি বেড়েছে। ১৯৯৮ সালে এর মান দাঁড়িয়েছিল ৩.৮১ রিঙ্গিতে। স্থানীয়রা আশা করেছিলেন, গত মে মাসে সরকারের নতুন চালু করা দ্রব্য এবং পরিসেবা কর (জিএসটি) ৬ শতাংশ বৃদ্ধির পর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে। কিন্তু তা হয়নি।
 জানা গেছে, সেদেশের জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাস এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে মন্দাবস্থা। আর দেশটির অর্থনীতির এ ধীরগতির প্রভাব পড়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের উপর। গত কয়েক বছরের মধ্যে মালয়েশিয়ান মুদ্রা রিঙ্গিতের মূল্য গত বছর সবচেয়ে নিচে নেমেগিয়েছিল। ১ ডলারের বিপরীতে রিঙ্গিতের মূল্য ৪ দশমিক ২৪ রিঙ্গিতে নেমেছিল। আর বাংলাটাকায় ১ রিঙ্গিতের মূল্য এসে নেমেছে ১৮ দশমিক ৫৪ টাকায়। গত বছরে  রিঙ্গিতের মূল্য প্রায় ৮ টাকা কমে যাওয়ায় দেশে টাকা পাঠানো প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর বৈধভাবে রেমিটেন্স কোম্পানি বা ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর পরিমানও কমেছিল। যার প্রভাব পড়েছিল মালয়শিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আয়ের উপর। তাদের বেতন ৬ মাস আগে যেখানে ছিলো ১৫০০ রিংগিত বর্তমানে তা কমে ১২০০ রিংগিতে নেমেছে। প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকরা জানান, দেশে প্রতিমাসে ১ হাজার রিংগিত পাঠানো হত। বাংলাদেশি টাকায় ছিল প্রায় ২৫,০০০টাকা। কিন্তু বর্তমানে তা ২০,০০০টাকারও নিচে নেমে গেছে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্বাহে খরচ প্রতিমাসে গড়ে প্রায় ৫শ মালয়েশিয়ান রিংগিত। বর্তমানে তাদের মাসিক আয় প্রায় ৩০০ থেকে ১হাজার রিংগিতের মাঝে। ফলে দৈনন্দিন খরচ বাঁচিয়ে সঞ্চয় করা অনেকের কাছেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এ দিকে শ্রমিকদের অনেকেই আবার নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না বলেও জানান শ্রবাসী শ্রমিকরা। গত বছরের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১০হাজার নিয়মিত বিদেশি শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। অনিবন্ধিত শ্রমিকদের অবস্থা এক্ষেত্রে আরও করুণ।
সাড়ে আট লাখ বাংলাদেশি তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করে দেশে টাকা পাঠান।
২০১৪-১৫ সালে তারা প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন যা ওই অর্থবছরের বৈদিশিক আয়ের ৯ শতাংশেরও বেশি।
সাড়ে আট লাখ বাংলাদেশি তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে মালয়েশিয়ায় শ্রমিকের কাজ করে দেশে টাকা পাঠান।
২০১৪-১৫ সালে তারা প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন যা ওই অর্থবছরের বৈদিশিক আয়ের ৯ শতাংশেরও বেশি।