বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নুরুল ইসলাম মারজান এবং উত্তরবঙ্গে নব্য জেএমবির প্রধান সাদ্দাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে একের পর এক শীর্ষ জঙ্গি নিহত হওয়ার খবর স্বস্তিকর। তবে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটছে না, কারণ তালিকাভুক্ত অনেক শীর্ষ জঙ্গি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের জঙ্গিবিরোধী কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখতে হবে।
আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন জঙ্গি দমনে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। তাদের তৎপরতার সাফল্যও মিলছে। গত বছর আলোচিত গুলশান হামলার পর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ একাধিক স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গি নির্মূলে সফল অভিযানে তামিম চৌধুরীসহ অন্তত ৩৬ জঙ্গি নিহত হন। সর্বশেষ হলি আর্টিজান হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ১৭ জনকে এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এদের মধ্যে ১৩ জন গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেঁড়িবাধ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় আলোচিত গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড নুরুল ইসলাম ওরফে মারজানসহ আরো এক জঙ্গি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নব্য ধারার সক্রিয় জঙ্গিদের শক্তি ও অপতৎপরতা আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর অভিযানে অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে এ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কসহ অন্তত ৩৬ সদস্য নিহত হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে অর্ধশতাধিক। ইতোমধ্যে জঙ্গিদের কোমর ভেঙে দেয়া হয়েছে। এখনো যারা আত্মগোপনে আছে তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করা হবে। দেশ থেকে জঙ্গিবাদকে চিরবিদায় জানানো হবে। জঙ্গি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাফল্য এবং তাদের আত্মপ্রত্যয় খুবই আশা জাগানিয়া। একই রকম দক্ষতা ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আগামী দিনেও তাদের কাজ করে যেতে হবে। আত্মগোপনে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে হবে। জঙ্গি দমনে এখনই আত্মতুষ্টি বা শিথিলতার কোনো সুযোগ নেই। জঙ্গি দমনে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠিন অবস্থান ধরে রাখতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। ধরপাকড়ের পাশাপাশি জঙ্গিদের অর্থপ্রবাহ বন্ধ করতে হবে। জঙ্গিরা যাতে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের তৎপরতায় সম্পৃক্ত করতে না পারে সেজন্য সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সম্পর্কে ইসলাম কী বলে তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। এ কাজে মসজিদের ইমামসহ আলেম সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিশ্চয় সম্ভব হবে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ।

