অভিনব প্রতারণায় বিকাশ এজেন্টদের নিঃস্ব করছে সালেহ

স্টাফ রিপোর্টার
খুব বিপদে আছি, আত্মীয় ঢাকা হাসপাতালে ভর্তি, জরুরী ভিত্তিতে টাকা পাঠাতে হবে। আমার ভাই টাকা নিয়ে আসছে তার আগে টাকাটা পাঠাতে হবে ঢাকায়। ভাই আসতে আসতে টাকাটা পাঠিয়ে দিন বিকাশে ততক্ষণ আমি এখানেই থাকবো।
এরকম বিভিন্ন প্রতারণামূলক কথাবার্তা বলে বিকাশ এজেন্টদের ভুলিয়ে ভালিয়ে ক্যাশ টাকা ছাড়াই টাকার কথা বলে নিজের বিকাশে টাকা ঢুকায় এক যুবক। দোকানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে বারবার ফোনে তাগদা দিতে থাকে টাকা নিয়ে আসার জন্য। সুযোগ বুঝে টাকা না দিয়েই চম্পট হয়ে যায় দোকান থেকে। একই পদ্ধতিতে গত দুদিনে কয়েকটি দোকানের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় সে।
গত বুধবার রাতে পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারের সেবা ফার্মেসীর পাশের একটি বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এভাবেই দশ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ওই প্রতারক। পরে সিসি ক্যামেরা দেখে তার চেহারা শনাক্ত করে দোকান মালিক। পরের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একই ভাবে দিরাই রাস্তা মদনপুর পয়েন্টের একটি দোকানে প্রতারণা করার সময় জনতার হাতে আটক হয় প্রতারক।
আটক ওই প্রতারকের ভাষ্যমতে তার নাম সালেহ আহমেদ। দোয়ারাবাজার উপজেলার নৈনগাঁও গ্রামে বাড়ি। সে অনেক বড় বিপদে আছে তাই এসব প্রতারণা করে বেড়াচ্ছে। যেখানে ধরা খেয়ে যায় সেখানে টাকা ফিরিয়ে দেয় আর যেখানে ধরা পড়ে না সেখান থেকে টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেয়।
দিরাই রাস্তায় প্রতারক আটকের খবর পেয়ে আলফাত স্কয়ারের প্রতারণার শিকার হওয়া এজেন্ট এবং মল্লিকপুরের আরেক ব্যবসায়ী মদনপুরে গিয়ে এই প্রতারকের কাছ থেকে তাদের টাকা উদ্ধার করেন।
আলফাত স্কয়ারের বিকাশ এজেন্ট মারজান আহমেদ বলে, তার বিপদের কথা শুনিয়ে আমাকে এমনভাবে ফাঁদে ফেলছে যে আমি টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি। টাকার অভাবে মানুষ মারা যাবে এটা হতে পারে না। মানবিক দিক বিবেচনা করে ক্যাশ হাতে না পেয়েই টাকা বিকাশে দিয়ে দেই। পরে আমি টাকা গোনার এক ফাঁকে সে উধাও হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী আবুল হাসান বললেন, তার কথাবার্তা ও চেহারায় যে কেউ প্রতারিত হবে। পৌর শহরে প্রতারণা করে এসে একই পদ্ধতিতে মদনপুর পয়েন্টে প্রতারণা করে। পরে দোকানী তার প্রতারণা টের পেয়ে যাওয়ায় তিন ঘন্টা পর টাকা ফেরত দেয়। এরা সংঘবদ্ধ চক্র। ফোনে তার সঙ্গীরা তাকে সহযোগিতা করে ও নির্দেশনা দেয়।
গোবিন্দপুরের বাসিন্দা সাংবাদিক ফুয়াদ মনি বলেন, প্রথমে দেখলাম একটি ঘটনা। পরে দেখি তিন জায়গা থেকে প্রতারণার শিকার হওয়া লোকজন এসেছেন। তার মানে এটাই তার পেশা। এভাবে আরও অনেকজনকে ঠকিয়ে আসছে হয়তো। বিকাশ ব্যবসায়ীদের আরও সচেতন হতে হবে লেনদেনের ক্ষেত্রে।
সবার টাকা উদ্ধার হয়ে যাওয়ায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। পরে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে প্রতারণার শিকার হওয়া তিন দোকানী আটক প্রতারককে ছেড়ে দেন।