আসাদ মনি
জেলার বেশিরভাগ কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি’ আদায় করা হয়েছে। নানা খাতের কথা বলে এই টাকা আদায় হয়েছে। করোনা পরিস্থিতেও শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক হয় নি এসব কলেজ প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের এই অতিরিক্ত টাকা মিলাতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বক্তব্য শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা মেনেই কিছু টাকা কলেজের উন্নয়ন খাতে নেওয়া হয়েছে। সিলেট শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ বলেছেন, অতিরিক্ত ফি আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিলেট শিক্ষাবোর্ড গত ৭ সেপ্টেম্বরে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এমপিও ভূক্ত মফস্বল/পৌর (উপজেলায়) এলাকায় অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসাকুল্যে ১০০০ টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় ২০০০ টাকা এবং সিলেট মেট্রোপলিটান এলাকায় ৩০০০ টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। সিলেট মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল আহমদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ছাত্রদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২৭২৩ টাকা। ছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২৫২৩ টাকা। বিজ্ঞান শাখায় ছাত্রদের ৩০২৩ টাকা ও ছাত্রীদের কাছ থেকে ২৭৮৩ টাকা আদায় করা হয়েছে।
ইসলামগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২৬৭০ টাকা। উপজেলা পর্যায়ে এই কলেজটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা নেয়ার কথা।
অতিরিক্ত টাকা কোন খাতে নেয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে কলেজের প্রিন্সিপাল সাজিনুর রহমান বলেন, আমাদের কলেজের বোর্ড নির্ধারিত ফি ১০০০ টাকা। অতিরিক্ত ১৬৭০ টাকা কলেজের উন্নয়ন খাতে নেয়া হয়েছে। এই ফি নেয়ার সিদ্ধান্ত কলেজ পরিচালনা কমিটি নিয়েছে। তবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভর্তির ফি কিছুটা শিথিল করেছি আমরা।
তাহিরপুরের ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প স্কুল এন্ড কলেজে আদায় করা হয়েছে ১৭০০ টাকা করে। সিমান্তবর্তী এই কলেজটিতেও ১০০০ টাকার বেশি আদায় করার কথা নয়। বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি জনপ্রতি ২৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এই কলেজে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা নেয়ার কথা।
কলেজের অধ্যক্ষ জুনাব আলী বলেন, করোনাকালীন সময়ে মানবিক হয়েই এই টাকা নিয়েছি। অতিরিক্ত কোনো টাকা নেইনি। অতিরিক্ত ১৩০০ টাকা উন্নয়ন খাতে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মেনে নেয়া হয়েছে।
পাগলা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২২০০ টাকা করে।
অধ্যক্ষ সৈয়দ রমিজ উদ্দিন বলেন, আমরা বোর্ড নির্ধারিত ১০০০ টাকাই আদায় করেছি। তবে প্রথমেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ৬ মাসের বেতন আদায় করেছি। যারা বেতন দিতে পারেন নি, তাদের বিষয়ে আমরা বিবেচনা করেছি। এক্ষেত্রে এসব শিক্ষার্থী বোর্ড নির্ধারিত ১০০০ টাকা দিয়েই ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার বড়খাল বহুমুখী স্কুল এ- কলেজ আদায় করেছে ২৫০০ টাকা করে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০০ টাকা বেশি আদায় করেছেন তারা।
এবিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ নজির আহমদ বলেন, ১৫০০ টাকা আমরা উন্নয়ন ফি হিসেবে নিয়েছি। দোয়ারাবাজার উপজেলা নিবার্হী অফিসার কোনো কলেজকে ১৫০০ টাকার বেশি নিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন। এজন্য আমরা ১৫০০ টাকার বেশি নিচ্ছি না। আমাদেরও কলেজ চালাতে হবে। ৫ জন বিজ্ঞানের শিক্ষককে কলেজের তহবিল থেকে বেতন দিতে হয়।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নিবার্হী অফিসার সোনিয়া সুলতানা বলেন, এটা আমার সিদ্ধান্ত নয়। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্ত হলো প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ফি সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা নিতে পারবে। সেটাই আমি সবাইকে জানিয়েছি।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মাজহারুল ইসলাম বলেন, সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলাদা একটি পরিপত্র রয়েছে। সে পরিপত্র অনুযায়ী বিগত বছরের মতো আমরা একাদশ শ্রেণির ভর্তির টাকা নিয়েছি। কোনো বাড়তি টাকা নেয় নি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে কত টাকা করে নিবেন সেটি আমাদের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি আকারে দিয়েছি। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।
জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন তাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো কলেজ অতিরিক্ত টাকা আদায় করলে এবং সেটি লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


