অলস সময় পার করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

সাইদুর রহমান আসাদ
বাজারে এখন ঈদের আমেজ। সরকার কঠোর লকডাউনের মাঝে কিছু বিধি নিষেধ শিথিল করায় মার্কেটগুলোতে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। তবে ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে ঈদের কেনাকাটা নিয়ে কোনো উৎসাহ নেই। শহরের ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অলস সময় পার করছেন দোকানে বসে। ক্রেতারা বলছেন, হাতে টাকা না থাকায় এবারের ঈদে কিছু কেনাটাকা হবে না তাদের।
বরিবার শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ফুটপাতের দোকানীদের বিমর্ষ অবস্থায় বসে থাকতে। অথচ শহরের অন্যান্য মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতিতে সরগরম। শহরের উচ্চ ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষজন সেসব মার্কেটে পরিবারের সদস্যদের জন্য একাধিক জামা কিনছেন। তবে নিম্ন আয়ের মানুষদের পকেটে কোনো টাকা নেই। তাই বেচা-বিক্রিও নেই ক্ষুদ্র ব্যাসায়ীদের।
ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজানের এই সময়টাতে ক্রেতাদের ভিড় থাকে দোকানে। তবে এবার কোনো ক্রেতা নেই। কারণ তাদের ক্রেতারা সবাই নিম্ন আয়ের। শহরের রিকশা শ্রমিক, টং দোকানীরা তাদের দোকানে জামা কাপড় কিনতে আসেন। এবার লকডাউনের কারণে তাদের হাতে টাকা নেই। ফলে নিজের পুঁজি খাটিয়ে ফুটপাতে বসলেও বেচা-বিক্রি না হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
ফুটপাতের ব্যবসায়ী আলামিন, মো. আলী খোকন ও মো. আব্দুল জব্বার বললেন, গতকাল সাতশ থেকে আটশ’ টাকা বিক্রি হয়েছে। আজকে কোনো বিক্রি নেই। এপর্যন্ত কোনো কাস্টমার আসেনি। কাস্টমার এলে কিছু বেচাকিনি হবে। বাজার এরকম মান্দা হওয়ায় পরিবার নিয়ে কিভাবে ঈদ করবো এই প্রশ্ন তাদের।
তারা বলছেন, লকডাউনে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে টাকা থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষের পকেট ফাঁকা। গরীব মানুষ এবার ঈদে কেনাকাটার জন্য আসছেন না। এতে নিম্ন আয়ের মানুষদের মতো তাদের পকেটও ফাঁকা হয়ে আছে। এরকম থাকলে ব্যবসায় খাটানো পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে।
নরসিংদীর বাসিন্দা মো. দুলাল মিয়া। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ডিএস রোডের পাশে ১০ বছর যাবৎ কাপড় বিক্রি করেন। প্রতি বছরই ব্যবসায় ভালো হয়। এই একমাসে যা লাভ হয় তা নিয়ে বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করেন। কিন্তু এবার তার দোকানেও কোনো বেচাকিনি নেই। ফলে তিনিও কাস্টমারের আশায় বসে আছে।
তিনি বলেন, আমরা ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। গরীব মানুষ আমাদের কাছ থেকে পরিবারের জন্য কাপড় কিনে নেন। তাদের মার্কেটে গিয়ে কাপড় কিনার ক্ষমতা নেই। কম দাম হলেও ভালো মানের কাপড় আমরা বিক্রি করি। তবে এবার কোনো বেচাবিক্রি নেই। কারণ কিছু মানুষ চলে গেছে হাওরে ধান কাটতে। আর শহরে যারা আছে তাদের কাছে টাকা নেই।
এদিকে নিম্ন আয়ের মানুষজন বলছেন, সরকারের বিধি নিষেধের কারণে তাদের রোজগারে ভাটা পড়েছে। সবজি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রিকশা চালক তাদের আয় কমে গেছে। দিনে যা উপার্জন করতে পারেন সেটা পরিবারের ভরণপোষণেই খরচ হয়ে যায়। অনেকে সহযোগিতা ও ধারদেনা করে চলছেন। তাই সন্তানের আবদার নতুন কাপড় কিনে দেয়া হবে না এই ঈদে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. মোক্তার আলী বললেন, আমি বেতের লাঠি বানিয়ে বিক্রি করি। এই লকডাউনে আমার কোনো বেচাবিক্রি নেই। টেনেটুনে সংসার চালাইতাছি। ৫ মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। বাকী ৪ জন রয়েছে। গত একবছর ধরে মেয়েদের কোনো জামা কিনে দিতে পারিনি। ভাবছিলাম এবার ঈদে মেয়েদের নতুন জামা কিনে দেবো। কিন্তু এবারও হবে না। কারণ আমার হাতে কোনো টাকা নেই।
শহরতলীর নবীনগরের বাসিন্দা রিকশা চালক আব্দুল হাকিম বললেন, রিকশা চালাইয়া খাই। এখন ক্যামনে ঈদ করমু? শহরে তো রিকশা চালাইতে পারি না। রিকশা লইয়া বের হইলে পুলিশে দৌঁড়ায়, মারে। এখন কোন পথে যাবো আমরা। এবার ঈদে সন্তানদের নতুন জামাও কিনে দিতে পারব না।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ার বললেন, সকাল ১০ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত মার্কেটগুলো খোলা থাকবে। তবে যারা অসুবিধায় আছে তাদের আমরা সহযোগিতা করছি। ইতিমধ্যে অনেক অসহায় পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।