অসহনীয় রাত…

বিন্দু তালুকদার
প্রচ- গরম, শুক্রবার থেকে পৌর পানিশোধনাগার থেকে পানি সরবরাহও বন্ধ, এর মধ্যেই রোববার রাত ১২ টা থেকে শহরে ছিল না বিদ্যুৎ। যেন কঠিন অবস্থা। সহ্য করার কোন উপায় নেই। রাত ৩ টা পর্যন্ত শহরের অনেকেই নিজের আঙিনায়-বারান্দায় অথবা দরজা-জানালা খোলে ঘরে বসে হা হুতাশ করেছেন।
এমন পরিস্থিতি কেন হলো জানতে চাইলে- বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হলো আকাশে বজ্রপাত হচ্ছিল, এ কারণে সুনামগঞ্জ- ছাতক মেইন গ্রীডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সুনামগঞ্জের ২৫ হাজার গ্রাহকের জন্য ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। রোববার ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ ছিল সুনামগঞ্জ শহরের জন্য। কিন্তু রাতে পর পর বেশ কয়েকবার লোড শেডিং হয়েছে। রাত ১২ টার পর একাধারে তিন টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।  বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান দাবি করলেন, রোববার রাতে কোন লোড শেডিং ছিল না। ১০ মেগাওয়াটের স্থলে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছিল। রাত দেড় টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বজ্রপাত হয়েছিল, তাই এই সময়টুকু ছাতক মেইন গ্রীড থেকে সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে ছাতকে কথা বলে লাইন চালু করা হয়। প্রচ- গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই। যেন মহাসংকটে পড়েছিলেন শহরবাসী।
শহরের হাছননগরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মো. মুজাহিদুল ইসলাম মজনু বলেন,‘গত ৪ দিন ধরে পৌরসভার পানি সরবরাহ বন্ধ। পাড়ার মোড়ে কোন টিউবওয়েল নেই। ষোলঘর এলাকার লোকজন রিকশা ও ঠেলাগাড়ি করে আমাদের বাসা থেকে পানি নিচ্ছেন। একই সাথে রাত ৩ টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ মহাবিপদে পড়েছিলেন’।
মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রফিক বলেন,‘রবিবার রাত কিভাবে কেটেছে তা বুঝানো যাবে না। গরমে বাচ্চারা সারা রাত কান্না-কাটি করেছে। হাত পাখার বাতাস দিয়ে কোনভাবেই বাচ্চাদের গরম থেকে মুক্ত রাখতে পারি নি। একই সাথে বাসায় ব্যবহারের উপযোগী পানিও ছিল না।’