Deprecated: Required parameter $month follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $day follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $year follows optional parameter $hour in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/bangla-date-display/uCal.php on line 146

Deprecated: Required parameter $display_count follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292

Deprecated: Required parameter $total_shares follows optional parameter $sharing_type in /home/sites/30a/d/d0e954554d/archive/wp-content/plugins/sassy-social-share/public/class-sassy-social-share-public.php on line 292
অস্থির চিনির বাজার/ কুমিরের ঠ্যাং এর বদলে লাঠি কামড়ে ধরার ভুল নীতি চলতেই থাকবে? – সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক

অস্থির চিনির বাজার/ কুমিরের ঠ্যাং এর বদলে লাঠি কামড়ে ধরার ভুল নীতি চলতেই থাকবে?

সুনামগঞ্জে চিনির বাজারের অস্থির অবস্থার উপর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে বাজারে চিনির সরবরাহ ও দামের বিভিন্ন বিষয় তুলে আনা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাজারে একদিকে চিনির প্রচ- সংকট অন্যদিকে ব্যাপক মূল্য বৃদ্ধি ঘটেছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের। ব্যবসায়ীরা এজন্য সরবরাহ সংকটকে দায়ী করেছেন। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, স্থানীয় বাজারে মাসে ২০ থেকে ২৫ টন প্যাকেটজাত চিনির চাহিদা থাকলেও গত ১৫ দিনে কোনো সরবরাহ পাওয়া যায়নি। প্যাকেটজাত চিনি বাজার থেকে একেবারে উধাও হয়ে গেছে। প্যাকেটের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরামূল্য উল্লেখ থাকার কারণে বিক্রেতারা প্যাৃকেট খোলে ওই চিনি বেশি দামে বিক্রি করছে। আগের সরবরাহের এক প্যাকেট চিনির দাম ৯৫ টাকা হলে সেই চিনি খোলে এখন ১১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চিনির স্থানীয় এজেন্ট বা পরিবেশকরা বলেছেন, কোম্পানিগুলো গত ১৫/২০ দিন ধরে কোনো চিনি দিচ্ছে না। এরকম অবস্থায় সাধারণ ভোক্তাদের অবস্থা আরও চরমে উঠেছে।
ভোক্তা অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছেন, রাজধানীতে চিনির সাপ্লাই কমে যাওয়ার কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সকলের জানা আছে। তবে গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে যে, রাজধানী ও চট্টগ্রামে চিনির প্রচুর মজুদ থাকলেও কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে বাজারে চিনির দাম বাড়িয়ে দেয়ার কারসাজি শুরু করা হয়েছে। বাজারে পণ্য বিশেষের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অশুভ প্রবণতা আমাদের দেশে অতি পরিচিত একটি অপচর্চা। বিশেষ করে ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এরকম কা- প্রচুর ঘটে থাকে। এই ধরনের কারসাজির মাধ্যমে কয়েকদিনে বাজার থেকে গুটিকয় ব্যবসায়ী হাজার হাজার কোটি টাকা পকেটে ভরে। কিন্তু সরকার বা সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এ ব্যাপারে কিছুই করতে পারে না। প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের অতিশয় দাপটের কাছে এসব প্রতিষ্ঠান কার্যত অসহায়। ভোক্তা অধিকার বা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাজারে কিছু অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে খুচরা ব্যবসায়ীদের জরিমানা করে। কিন্তু বাজার কারসাজির জন্য প্রধান দায়ী যারা সেইসব আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারে না। অথচ খুচরা বাজারের এসব তৎপরতার পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের উপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে সবিশেষ সুফল পাওয়া যেত বলে সকলেই মনে করেন। কুমিরের ঠ্যাং এর বদলে লাঠি কামড়ে ধরার এই ভুল নীতি পরিত্যাগ করতে না পারলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যে কঠিন হবে তা বলাই বাহুল্য।
সুনামগঞ্জের বাজার দিয়ে চিনির সরবরাহ পরিস্থিতি বা মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। তাই আমদানী পর্যায়ে নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মূল্য বৃদ্ধির কোনো খবর আমাদের জানা নেই। তাই কেন হঠাৎ করে চিনির বাজার অস্থির করা হলো তার কারণ অনুসন্ধান এবং এজন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটু তৎপর এবং গণমুখী হলে এ কাজ খুব কঠিন নয়। প্রয়োজনে অসাধু কয়েকজন আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিল করে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে পারলে এমন অশুভ প্রবণতা কমতে বাধ্য। ওই ধরনের শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের ঝুঁকি কি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিতে পারবে? যদি না হয় তাহলে প্রধান ব্যবসায়ীদের অনুনয় বিনয় করে সাময়িক সমাধান এবং কয়েকদিন পর আবার একই ধরনের অবস্থার পুনরাবৃত্তির পৌনপুনিক বৃত্ত ভাঙা সম্ভব হবে না।