অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় যত দুর্ভোগ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
‘আমার অন্তসত্ত্বা স্ত্রী’র প্রসব ব্যথা শুরু হলে ধর্মপাশা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি করেন। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ডাক্তার জানায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে নেত্রকোনা বা ময়মনসিংহে নিয়ে যেতে হবে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে। এ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স নেই। আমি পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জ ও নেত্রকোনায় অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাসের খোঁজ করতে থাকি। কোথাও অ্যাম্বুলেন্স থাকা মাইক্রোবাস পাওয়া গেলো না। সিএনজি স্ট্যান্ডে একটি সিএনজি পাওয়া গেলো। ততক্ষণে ঘন্টাখানেক সময় চলে গেছে। সিএনজি দিয়ে নেত্রকোনা পর্যন্ত যাওয়া যাবে। তবে সিএনজি ড্রাইভার জানালেন তিনি নেত্রকোনার বারহাট্টা পর্যন্ত যেতে পারবেন। সেখান থেকে আবার সিএনজি করে নেত্রকোনায়। যদিও সিএনজি কোনো প্রসূতির জন্য নিরাপদ নয় তবুও ঝূঁকি নিয়ে সিএনজি দিয়েই বাধ্য হয়ে রওয়ানা দিয়েছিলাম। পরে নেত্রকোনা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আমার স্ত্রীকে নিয়ে মধ্যরাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছেছিলাম।’ এটি গেল বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। বর্ণনা করছিলেন, ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের ধর্মপাশা গ্রামের শাহরিয়ার আহমেদ ইমন।
শুধুমাত্র ইমন-ই নয় অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় হাওরবেষ্টিত ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে রোগী অন্যত্র নিয়ে যেতে দুর্ভোগে পড়েননি এমন ভূক্তভোগীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় থেকে মূমুর্ষূ রোগীর মৃত্যুও ঘটছে এখানে। সাধারণত সুনামগঞ্জ জেলা শহরের সাথে ধর্মপাশা উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না থাকায় এ অঞ্চলের মূমুর্ষূ রোগীদের নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল  বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবুও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষে ২০১১ সালের ১৬ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভৌগোলিক অবস্থার কারণে এখানে নৌ অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কোনোভাবেই সঠিক ছিল না। তবুও হাওরবাসী স্বপ্ন দেখেছিলেন, বর্ষা মৌসুমে দূরের ইউনিয়নগুলো থেকে মূমুর্ষূ রোগীকে নৌ অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে পারবেন। কিন্তু ‘চালক নেই’ এমন অজুহাতে নৌ অ্যাম্বুলেন্স একদিনের জন্যেও চলেনি। ফলে ১৬ লাখ টাকা মূল্যের নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতাল সংলগ্ন শয়তানখালী খালের পাড়ে অযতেœ ফেলে রাখা হয়। যা দীর্ঘ সাত বছরে ভেঙে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে দিনদিন। লতাপাতা ও আগাছায় ঢেকে যাচ্ছে এর ধ্বংসাবশেষ।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ধর্মপাশা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিদুল হক সাজু বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে হাসপাতালে সড়ক পথে চলাচলের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দিলে উপজেলাবাসী উপকৃত হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মহসিন করিম জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে গত মঙ্গলবার দেশের ৮৪ টি উপজেলায় সড়কপথে চলাচল উপযোগী অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ বরাদ্দের আওতায় পড়েছে বলেও জানান তিনি।