আকরাম উদ্দিন
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন মিজানুর রহমান। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ)। কিন্তু নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখায় ভ্রাম্যমান আদালত তাঁকে ৫০হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এক বছর পর সেই টাকা ফেরত পেয়েছেন তিনি।
মামলা সূত্রে ও মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩১ মে দুপুর ১২টায় দিরাই পৌর শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় দিরাই পৌর শহরের বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ছয়জন ‘ভুয়া ডাক্তারকে’ জেল ও জরিমানার আদেশ দেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স¤্রাট খীসা। দ-প্রাপ্তরা দিরাই শহরের বিভিন্নস্থানে নিজেদের নামের আগে ‘ডাক্তার’ জুড়ে দিয়ে রোগী দেখছিলেন।
তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কারো এসএসসি আবার কারো এইচএসসি। একই সময় মিজানুর রহমানকেও বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৯ (১) ধারায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মিজানুর রহমান তখন সেই টাকা পরিশোধ করেন। নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখাই ছিল তাঁর অপরাধ। মিজানুর রহমান পরে ভ্রাম্যমান আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আপিল করেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আপিলের শুনানি হয়। আদালতে দাখিল করা মিজানুর রহমানের ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি সনদ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে নেওয়া সনদপত্র পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠান আদালত এবং এর সঠিকতা পান।
মিজানুর রহমান জানান, ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) ডিগ্রিধারীদের নামের আগে ডাক্তার লেখার বিষয়ে কোনো বাধা নেই মর্মে উচ্চ আদালতের আদেশ রয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের কাছে তিনি সেদিন বিষয়টি বলেছেন। কিন্তু তারপরও তাঁকে জরিমানা করা হয়।
শুনানি শেষে আদালত মিজানুর রহমানের আপীল মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশে উল্লেখ আছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে মিজানুর রহমান সেই সময়ে বলবৎ উচ্চ আদালতের এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ দেখাতে পারেননি। পরে আপিল শুনানিতে তিনি সেই আদেশ দাখিল করেন। তাতে দেখা যায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সময় নামের আগে ডাক্তার লেখায় মিজানুর রহমান আইনের ব্যত্যয় ঘটাননি। আদেশে জরিমানার টাকা ফেরৎ পাওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবারে আবেদন করতে বলা হয় মিজানুর রহমানকে। আবেদনের পর গত মঙ্গলবার মিজানুর রহমান তাঁর ৫০হাজার টাকা ফেরত পেয়েছেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাবেরা আক্তার মিজানুর রহমানের আপীল মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


