যুব-তরুণ সমাজের সর্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্বনাশের বড় একটি কারণ হলো অত্যধিক জুয়া আসক্তি। নানা প্রকারের ও ধরনের জুয়া খেলার আয়োজন সমাজের আনাচে কানাচে বিস্তৃত করে রাখা হয়েছে। পতঙ্গ যেমন আগুন দেখলেই ঝাঁপ দিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দেয় তেমনি এসব জুয়ায় আকৃষ্ট হয়ে দেশের তরুণ যুব সমাজ সর্বনাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে নিজের, পরিবারের, সমাজের ও দেশের জন্য অতিশয় ক্ষতিকারক ব্যক্তিতে পরিণত হয়ে চলেছে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় চলমান আইপিএল ক্রিকেট খেলাকে ঘিরে রমরমা জুয়া খেলার উপর একটি রিপোর্ট করা হয়েছে। সকলেই বিশ্বাস করবেন তথাকথিত টি ২০ খেলার এই বিখ্যাত আসরটিকে ঘিরে সারা দেশেই এমন জুয়ার বহুল বিস্তার রয়েছে। অনেকেই এখন আর আইপিএল দেখতে পছন্দ করেন না। একটি বড় সংখ্যক মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন এই আসরে ক্রিকেটের নামে একটি তামাশা মঞ্চায়িত হয় যার প্রধান লক্ষবস্তু থাকে সুবিশাল জুয়া-বাণিজ্য। এর সত্য মিথ্যা আমরা জানি না কিন্তু জনমনে সঞ্চিত এই বদ্ধমূল ধারণাটি যে একেবারে অমূলক তা উড়িয়ে দেয়ার অবকাশ নেই। একটি নির্ভেজাল ক্রিকেট খেলা যা বিনোদনের অন্যতম উপকরণ হতে পারে সেটি আজ দেশে দেশে সর্বনাশের কারণ হয়ে উঠেছে। আইপিএলকে ঘিরে বাংলাদেশে বিশাল একটি সমর্থকগোষ্ঠী আছে। জুয়া খেলার জন্য উন্মুখ পতঙ্গসম বিশাল তরুণ-যুবগোষ্ঠীটি রয়েছেই। এই উৎসাহীদের আরও আকৃষ্ট করতে আইপিএল এর বিভিন্ন দল প্রতি বছর কিছু বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের দলভুক্ত করে রাখে কিন্তু তাদের কোনো খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয় না। অনেকেরই মত বাংলাদেশের বিশাল দর্শক ও আগ্রহী জনগোষ্ঠীর বাজারকে লক্ষ রেখেই এই বাংলাদেশি খেলোয়াড় নেয়া হয়। খেলার বিনোদন উপভোগ করার চাইতে এই যে আইপিএল এখন জুয়াড়ীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসল তা বন্ধ করতে কারও কোনো আগ্রহ লক্ষ করা যায় না। তরুণ যুব সমাজের সুচরিত্র গঠনের জন্য খেলাধুলা একটি আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ, কিন্তু আজ সেই খেলাকেই চরমভাবে বিতর্কিত করে ফেলা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত বেদনার।
জুয়া খেলার আসক্তি থেকে তরুণ সমাজকে নিবৃত্ত করতে রাষ্ট্র ও পরিবার সকলের ভূমিকা এক সুতোয় বাঁধা। রাষ্ট্র ও এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রতিনিয়ত এরকম অশুভ প্রবণতার বিরুদ্ধে তৎপর থাকতে হয়। কিন্তু তা খুব একটা দেখা যায় না। আইপিএল জুয়া ব্যক্তিগত পর্যায়ের বাইরেও বিভিন্ন ইন্টারনেটভিত্তিক গ্রুপ ও অ্যাপস ব্যবহার করে পরিচালনা করা হয়। রাষ্ট্র কঠোর হলে এসব ইন্টারনেটভিত্তিক অ্যাপসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন নয়। এছাড়া প্রশাসন সর্বত্র জুয়া বিরোধী কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারে। কিন্তু কোথায় কী? পরিবারের অভিভাবকরা দিশেহারা। উঠতি বয়সের জুয়াসক্ত সন্তানদের তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। কেউ কেউ থাকছেন একেবারেই নিস্পৃহ। পরিবারে পরিবারে বাড়ছে অশান্তি, হিং¯্রতা। বাড়ছে সামাজিক অপরাধকা-। টাকা সংগ্রহ করতে যেয়ে জুয়াসক্তরা জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে। সহজে ধনি হওয়ার মিথ্যা আশায় এরা যে যেভাবে পারে টাকা এনে জুয়ার দানে ধরছে। পরে সর্বস্ব হারিয়ে আরও বড় কুকর্ম ঘটানোর জন্য হাত পাকায়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এই নষ্ট তরুণদের কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করে সুপথে ফিরিয়ে আনার ধারাবাহিক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। একটি প্রজন্মের অধিকাংশ কর্মিষ্ঠ হাত দেশোন্নয়নের পরিবর্তে দেশের বোঝায় পরিণত হতে চলেছে। এখনই এদের থামান।
আইপিএল বা অন্য কোনো খেলা, তাস, পাসা বা অন্য যা কীছু; যেখানেই জুয়ার সামান্য উপস্থিতি টের পাওয়া যায় সেখানেই কঠোর প্রশাসনিক তৎপরতা আমরা কামনা করি। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, সন্তানদের দিকে লক্ষ রাখুন। এদের নজরদারি ও শাসনে রেখে নষ্ট হওয়ার পথ থেকে ফিরিয়ে আনুন।


