স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার এবং বিশ্বম্ভপুর উপজেলার একজন সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ সুনামগঞ্জে আরও ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার জেলা প্রশাসনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা যায়। আক্রান্তদের মধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ১ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ১জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ১ জন ও দিরাই উপজেলার ১ জন। অপরদিকে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় একজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা পাঠানো হয়েছিল ময়মনসিংহ হাসপাতালে। আজ শনিবার সেখান থেকে জানানো হয়েছে ওই ব্যক্তির শরীরে পাওয়া গেছে করোনাভাইরাস।
জেলা প্রশাসনের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জে নতুন করে হোম কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন আরও ১২ জন। ১২৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আইসোলেসনে নেয়া হয়েছে ৬ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১ জনকে। বিদেশ থেকে জেলায় এসেছেন ১৪ জন।
গত ১ মার্চ থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪১৯৬ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৫৬৬ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৬৩০ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ১৩ জন ও আইসোলেসনে আছেন ৩৪ জন। গত ১ মার্চ থেকে বিদেশ থেকে জেলায় এসেছেন ২৪১৭ জন। ঠিকানা চিহ্নিত করা হয়েছে ২৩১০ জনের। এদের মধ্যে ১০৭ জনের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে জেলায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩৪ জনে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪ জন, দিরাই উপজেলায় ২ জন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ৪ জন, ছাতক উপজেলায় ২ জন, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৫ জন, শাল্লা উপজেলায় ৩ জন, জামালগঞ্জ উপজেলায় ২ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৫ জন, ধর্মপাশা উপজেলায় ৪ জন। আক্রান্ত হওয়া আরও একজন কোন উপজেলার তা এখনও জানা যায়নি।
সুস্থ হয়েছেন ২ জন। গত ২৭ এপ্রিল সোমবার দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের চণ্ডিপুর গ্রামের শিবলি বেগম (২৫) ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকা থেকে পালিয়ে সুনামগঞ্জে আসা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একজনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তাকে সদর হাসপাতালের আইনসোলেশন ওয়ার্ডে ধরে আনা হয় গত ১৫ এপ্রিল রাতে।
জানা যায়, শুক্রবার ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে ও ঢাকায় পাঠানো নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ১১৫ জনের পজিটিভ আসে। এরমধ্যে ঢাকায় আক্রান্ত ৯৯ জনের মধ্যে ২১ জনের পরিচয় জানা গেছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জের ১২ জন, মৌলভীবাজারের ৫ জন ও সুনামগঞ্জের ৪ জন রয়েছেন নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ পিসিআর ল্যাবে আরো ১৬ জনের করোনা পজিটিভ আসে। সিলেটে ৮ জন, হবিগঞ্জে ৭ জন এবং সুনামগঞ্জে ১ জন। সিলেটে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছালো ২২৫ জনে।
উল্লেখ্য, করোনা চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১০০টি বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও ২০ জন ডাক্তার ও ১৪৩ জন নার্সও রয়েছেন। ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লা উপজেলায় ৩টি করে বেড এবং সুনামগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও আনিছা হেলথ কেয়ারে ২টি করে বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ১৩১ টি বেড রয়েছে। এছাড়াও ৮৬ জন ডাক্তার, ২৪৭ জন নার্স প্রস্তুত রয়েছেন। আক্রান্তদের জরুরী চিকিৎসায় স্থানান্তরের প্রয়োজনে ১ টি এম্বুলেন্স প্রস্তুত রয়েছে। জরুরী বিভাগে আইসোলেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে।


