আক্রান্ত ডিপিও বদলি!

বিশেষ প্রতিনিধি
করোনা আক্রান্ত অবস্থায়ই সুনামগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানকে বদলী করা হলো। নজরুল গবেষক হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তার বদলীর বিষয়টি জেলার শিক্ষক মহলসহ জেলা পর্যায়ের কমকর্তাদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠেছে। ২০ আগস্ট এই কর্মকর্তার বদলির আদেশ হলেও তিনি করোনায় আক্রান্ত থাকায় এখনো দায়িত্ব হস্তান্তর করেন নি। অবশ্য বদলি হওয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেখানে তাঁকে বদলি করেছেন, সুস্থ্য হয়ে তিনি সেখানেই যোগদান করবেন। গত বছরের ৫ মার্চ জাতীয় শিক্ষা একাডেমী (নেপ) থেকে সুনামগঞ্জে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসাবে পদায়ন করা হয় মো. জিল্লুর রহমানকে। সংস্কৃতিমনা এই কর্মকর্তা এই জেলায় যোগদানের পর তাঁর নিজের দপ্তরসহ সকল মহলেই গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেন। গত ১৫ আগস্ট তাঁর শরীরে করেনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি নমুনা প্রদান করেন। ১৭ আগস্ট তাঁর শরীরে করেনা শনাক্ত হয়। ২০ আগস্ট তিনি প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে করোনা শনাক্তের কথা জানান। আবার ওই দিনই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আক্তারুনাহারের স্বাক্ষর করা বদলির চিঠি পান। তাঁকে রাজধানীর বাধ্যতামূলক প্রাথমিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়। জিল্লুর রহমান ১৬ আগস্ট থেকে তার রাজধানী ঢাকার লেচুবাগানের নিজ বাসভবনে আইসোলেশনে আছেন।
জিল্লুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেছেন, তিনি সরকারি চাকুরিজীবী, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেটি ভাল মনে করেছেন, সেটিই করেছেন। তিনি কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী সুস্থ্য হলেই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন আহমদ জানালেন, করোনা আক্রান্ত কোন কর্মকর্তা কর্মচারীকে বদলি করা হলে, তিনি সুস্থ্য হওয়ার আগে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে পারবেন না।