আগামীকাল ছাতক ও দোয়ারায় ইউপি নির্বাচন, নির্বাচনি ব্যবস্থায় আস্থা ফিরুক

আগামীকাল বৃহষ্পতিবার ছাতকের ১০ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করে এনেছেন। আজ কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনি কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণ সামগ্রী সহ অবস্থান নিবেন। প্রার্থীরা প্রচারণা পর্ব শেষ করে এখন ভোট গ্রহণের দিনের অপেক্ষায় রয়েছেন। মনোনয়নের আগে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য, বিশেষ করে সরকারি দলের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রার্থীদের মধ্যে যে ধরনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নানামুখী তৎপরতা দেখা গিয়েছিলো নির্বাচনি প্রচারণাপর্বে সেই ধরনের পরিবেশ দেখা যায়নি। মোটামুটি সাদামাটাভাবেই শেষ হয়েছে প্রচারণাপর্ব। যারা সরকার দলীয় প্রতীক পেয়েছেন তারা নির্ভার সময় পার করেছেন। বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার খরগ মাথায় নিয়েই নির্বাচনি বৈতরণী পেরিয়ে আসার জন্য সচেষ্ট আছেন। বিএনপি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত না নেয়ায় তাদের প্রার্থীরা লড়ছেন স্বতন্ত্র পরিচয়ে ভিন্ন প্রতীকে। দলীয়ভাবে তাদের প্রচারণার কোনো আয়োজন ছিলো না। তারাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন দৃশ্যত নিজেদের ব্যক্তিগত পরিচয়কে সম্বল করে। মূলত নির্বাচনি প্রচারণাপর্বটি জমিয়ে রেখেছিলেন সদস্য প্রার্থীরা। এই পদে দলীয় প্রতীক না থাকায় সকলেই স্বাধীনভাবে নিজেদের উপযুক্ততা প্রমাণের চেষ্টা করতে পেরেছেন। স্বস্তির কথা এই, কয়েকদিনের প্রচারণাপর্বে কোনো সহিংসতা বা অন্য কোনো বিশৃঙ্খলার সংবাদ পাওয়া যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তেজনা কথামালার মধ্যেই ছিলো সীমাবদ্ধ। এই স্বস্তিঁটুকু নির্বাচনের দিন ও এর পর বজায় থাকলে সকলেই খুশি থাকবেন।
দুই উপজেলার ১৯ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯২ জন, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংখ্যাগত দিকটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার কথাই বলে। আমরা আশা করব, বৃহষ্পতিবার এই দুই উপজেলায় একটি ভালো নির্বাচন হবে। ভোটাররা স্বতস্ফূর্তভাবে প্রার্থী নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। ভোট গ্রহণ কিংবা ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে কেউ কোনো অযাচিত বা অবাঞ্ছিত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবেন না বলেই ধারণা পাওয়া গেছে। সোমবার দোয়ারাবাজারে এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, নির্বাচনে কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণের বিষয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁর এই ঘোষণা সকলকে আশান্বিত করেছে। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো নির্বাচন কমিশনের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন নিয়ে জনমনে নানা সন্দেহ ও বিভ্রান্তি রয়েছে। ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে এই সন্দেহ ও বিভ্রান্তি দূর করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা চাইবো এই নির্বাচনের পর সকলের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কেটে যাবে এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের স্বীকৃত এই পন্থাটি কার্যকর বলেই প্রতিভাত হবে সকলের কাছে। যদি সেটি করতে না পারা যায় তাহলে ভবিষ্যতে নির্বাচনি ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও হ্রাস পাবে। সেটি জাতীয় জীবনের জন্য হতে পারে বিপর্যয়কর।
যেকোনো নির্বাচনের সময় ভোটাররা শঙ্কিত থাকেন নানা কারণে। জয়-পরাজয় মেনে নেয়ার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত না হয়ে উঠাই এর কারণ। তাই নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করার বিষয়টি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ । ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার আসন্ন এই নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন যে ইতিবাচক ধারণা দিয়েছেন, ভোট গ্রহণের দিন ও ভোট গ্রহণ পরবর্তী দিনগুলোতে আমরা সেই প্রত্যাশিত পরিবেশ দেখার আশায় রইলাম।